News logo
Friday 20th September 2019

বুধবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু



মার্চ ৩১, ২০১৫ | ২২:০৯:৫৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির মধ্যেই শুরু হচ্ছে ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বুধবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। এরই মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে উত্তরপত্র।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বাংলানিউজকে বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বুধবার প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা প্রথমপত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা।

তিনি বলেন, শিক্ষাবোর্ড ৫০টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। এর মধ্যে ১০টি বিশেষ টিম এবং ৪০টি সাধারণ টিম। এসব টিম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে যাবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার ২১৭টি কলেজ থেকে ৮০ হাজার ৬৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিবে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ হাজার ১৩০ জন নিয়মিত, ১৭ হাজার ৬৭৬ জন অনিয়মিত এবং ৪০৮ জন প্রাইভেট পরীক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩৯ হাজার ৩৮০, মানবিক শাখায় ২৮ হাজার ৭৫০ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ১২ হাজার ৫২৩ জন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি শাখায় ৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় মোট ৯২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় (নগরীসহ) ৫৯, কক্সবাজারে ১৩, রাঙামাটিতে ৮, খাগড়াছড়িতে ৮ এবং বান্দরবান জেলায় ৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কোন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, কোনো ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থাকলে কর্তব্যরত কক্ষ পর্যবেক্ষক তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবেন। এক্ষেত্রে ঐ বছরের পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তী ৩ বছরের জন্য পরীক্ষায় বসার অনুমতি না দেওয়ার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অপরদিকে, পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত পর্যবেক্ষকরা যাতে সঙ্গে মোবাইল না রাখেন তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। পর্যবেক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবেন না। কেবল প্রয়োজনে নিয়ম অনুসারে তাদের কাছে গিয়ে নিচু স্বরে নির্দেশ দিতে পারবেন। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, যে কোন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনার নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়ন থাকবে।

এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

১৯৭৮ সালের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ এর ২৯, ৩০ ও ৩৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সিএমপি কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজ পরিধির মধ্যে পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পূর্ব হতে পরীক্ষা শেষের পরবর্তী এক ঘণ্টা পর্যন্ত অস্ত্র-শস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর প্রভৃতি বহন, উচ্চস্বরে চিৎকার, হৈচৈ, গান-বাজনা, মাইক্রোফোন, লাউড স্পীকার বা অন্য কোন শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার, পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দায়িত্বপালনরত ব্যক্তি ও পরীক্ষার্থী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

তবে পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও নিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ নিষেধাজ্ঞার বর্হিভূত থাকবেন।

Top