News logo
Monday 25th March 2019

আবার বৃক্ষ নিধন



জানুয়ারি ১৪, ২০১৫ | ২০:২৩:৩৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
হরতাল-অবরোধের নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে গাছ কাটার মহোত্সব। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর শুরু হয় জেলার সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশের গাছ নিধন। গত দুই বছরে জেলায় সহস্রাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। চলমান অবরোধে গত সাত দিনে জেলার শিবগঞ্জ-সোনাসমজিদ মহাসড়ক, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাটে শতাধিক গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এর মধ্যে শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কেই কাটা হয়েছে অর্ধশতাধিক গাছ। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের রাতে শিবগঞ্জ-সোনাসমজিদ মহাসড়কে দেড় শতাধিক গাছ নিধন করে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক বাণী ইসরাইল বাদী হয়ে একটি মামলাও দায়ের করেন। স্থানীয় জামায়াত নেতা আতাউর রহমানসহ ৭৭ জামায়াত-শিবির কর্মীকে অভিযুক্ত করে মামলার চার্জশিটও প্রদান করে পুলিশ।

বর্তমানে ৪৮ আসামি জামিনে থাকলেও বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছেন। কিন্তু কত গাছ নিধন করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই অভিযোগপত্রে। এমনকি সরকারি কোন দফতরের অধীনে সেই গাছগুলো ছিল সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই মামলার বাদী বা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে। মামলাটি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। রাস্তার দুই ধারের এসব সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করা হলেও কোনো হিসাব নেই সরকারি দফতরগুলোর কাছেও। এমনকি এসব গাছের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোও অবগত নয় এগলো তাদের কিনা। গাছের পরিসংখ্যান জানতে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ, জেলা পরিষদ ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে। কিন্তু দফতরগুলোর দাবি কর্তন করা গাছগুলো তাদের নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আকবর আলী বলেন, রাস্তার দুই ধারের গাছ আমাদের নয়। ভেতরের দিকে আমাদের কিছু গাছ আছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে সড়ক অবরোধের সময় আমাদের ১১৬টি কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ বছর আমাদের দায়িত্বে থাকা কোনো গাছ কাটা হয়নি। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার সফিকুল ইসলাম বলেন, সোনামসজিদ থেকে শিবগঞ্জের পথে এক কিলোমিটার রাস্তায় আমাদের গাছ লাগানো হয়। তবে আমাদের কোনো গাছ কাটা হয়নি।

পরে তার পরামর্শে উচ্চমান সহকারী রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে ছয় শতাধিক গাছ লাগিয়েছিল জেলা পরিষদ। বর্তমানে সেই গাছ নেই বললেই চলে, হরতাল অবরোধে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফজি মোস্তফা বলেন, শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের রাস্তার ধারে কোনো গাছ নেই, যা আছে সব ভেতরের দিকে। আমাদের বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা কোনো গাছ হরতাল অবরোধে কাটা হয়নি।

দাফতরিক সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে সড়ক বিভাগের কোনো গাছ নেই। প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকায় কিছু গাছ লাগানো হয়। তবে এখন সেগুলো কোন অবস্থায় আছে তা তাদের জানা নেই।  অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, গাছের হিসাব আমাদের কাছে নেই, তবে রাস্তায় গাছ কেটে ফেলে রাখলে তা নিয়ে আসার জন্য তাদের তলব করা হয়।

এ বিষয়ে তথ্য জানতে শিবগঞ্জ ইউএনও ইরতিজা আহসানের সঙ্গে তার সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে কথা হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফাজ উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে সাত থেকে আটটি গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে গত কয়েক দিন আমরা সেগুলো উঠিয়ে নিয়ে আসলে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আমরা সেগুলো আর নিয়ে আসছি না। তাছাড়া কাটা গাছগুলো ক্রয়ের জন্য ক্রেতা না থাকায় ব্যারিকেডের জন্য ব্যবহূত গাছগুলো বিক্রিও করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা সেগুলো এখন আর সংগ্রহও করছি না।

Top