News logo
Wednesday 19th June 2019

ঈদের ছুটিতে সুনামগঞ্জের ৪৬টি স্থানে ২ লাখের অধিক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটতে পারে



সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ | ১৭:২৯:৫৮

হাবিব সরোয়ার আজাদ
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কুল ঘেষা প্রাকৃতিক সম্পদ আর নৈসর্গিক অপরুপ দৃশ্যবলীতে প্রকৃতি তার নিজ হাতেই সাজিয়েছেন হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জকে । জেলার তাহিরপুর, সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক আর ধর্মপাশার মধ্যনগরের মহেষখলায় পাহাড়, টিলা, পাহাড়ি নদী -ছড়া, চুনাপাথর খনি প্রকল্প, কয়লা আমদানির শুল্ক ষ্টেশন, মিঠা পানির অসংখ্য জলমহাল , বোরো ধানের হাওর ,ওয়াল্ড হেরিটেইজ রামসার সাইট গাছ মাছ অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম টাঙ্গুয়ার হাওর, গার্ডেন, পীর আউলিয়ার মাজার, মন্দির, গীর্জা আর আদিবাসী পল্লীর মানুষের জীবন যাত্রা নিজ চোখে দেখার জন্য প্রতি বছর দু’টি ঈদ এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় ৪৬টি দর্শনীয় স্থানে দেশী -বিদেশী পর্যটক , ভ্রমন পিপাসু সহ প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ লোকের সমাগম ঘটে তাহিরপুরে।
পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটির এক গবেষণায় প্রকৃতির রাজ্য তাহিরপুরে শুধু মাত্র প্রকৃতির রুপ দেখতে ঈদ ও পুজার সময় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় তাহিরপুর সহ জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রায় দু’লাখের মত দর্শনার্থীর আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে। পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটির এক গবেষণায় প্রকৃতির রাজ্য তাহিরপুরকে উপজেলাকে নিয়ে এমন তথ্যই উঠে এসেছে । জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান গুলো সহ প্রায় ২ লাখ দর্শনার্থীর আনাগুনো থাকবে ঈদ ও পূজার উৎসব মিলিয়ে।
এবারের পবিত্র ঈদুল আযহা ও পূঁজার ছুটিতে বরাবেরর মত তাহিরপুর সহ জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান গুলোতে গড়ে ২ লাখের ও অধিক পর্যটক আর দর্শনার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা সদর সুনামগঞ্জ থেকে সরাসরি বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, লেগুনা, অটোরিক্সা করে তাহিরপুর উপজেলা সদর কিংবা লাউড়েরগড় ও বিন্নাকুলি পৌছে মোটর সাইকেল কিংবা ষ্পিডবোর্ড ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ভাড়া নিয়ে ইচ্ছে মত ঘুরাফেরা করা যায় তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থান গুলোতে।
এবারের পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে । ছুটি শেষ হবে ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার। আর শারদীয় দূর্গাপূজার ছুটি শুরু হবে ৭ অক্টোবর। ছুটি শেষ হবে ৫দিন পর।
ঈদের দিন থেকে ঈদের ছুটির শেষ বিকেল পর্যন্ত লাখো পর্যটকের আগমের অপেক্ষায় রয়েছে ,মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে থাকা হযরত শাহ আরেফিন (রহ;) আস্থানা, ওপারে থাকা মেঘালয় পাহারে হযরত শাহ আরেফিন (রহ:)’র ঝরণা ধারা, ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের সীমান্ত নদী জাদুকাঁটা, নদী সংলগ্ন ৩৬০ একর আয়তনের সবুজের অভায়ারণ্য বারেকটিলা, রাজার অদ্বৈত প্রভুর আখড়াবাড়ি, গড়কাটি ইসকন মন্দির, মাহারাম ও জাদুকাঁটা নদীর তীরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিমুল তুলার বাগান জয়নাল আবেদীন গার্ডেন, হলহলিয়ার রাজবাড়ি, কড়ইগড়া-রাজাই আদিবাসী পল্লী, কড়ইগড়া মাঝের টিলা, রাজাই টিলা, চাঁনপুর সীমান্তের নয়াছড়া, টেকেরঘাটের বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশন, বড়ছড়া বীর শহীদদের বধ্যভুমি, ভাঙ্গারঘাট কোয়ারী, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প, প্রকল্প লাগোয়া শহীদ সিরাজ বীর উওম লেক, ৭১’র মুক্তিযোদ্ধের ৪ নং সেক্টরের ৫-নং সাব সেক্টরের জেলা পষিদের কতৃক টেকেরঘাটে নির্মাণকৃত শহীদ স্মৃতিস্থম্ভ, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প, শহীদ সিরাজ বীর উওমের সমাধীস্থল, ঐতিহ্যবাহি টেকেরঘাট চুনাাথর খনি প্রকল্প উচ্চ বিদ্যালয়, টেকেরঘাট স্কুলের পেছনে লাগোয়া পাহাড়ি ঝরনা, লাকমা ছড়া, লালঘাট ছড়া, চারাগাঁও শুল্কষ্টেশন-ছড়া, বীরেন্দ্রনগরের সীমান্ত লাগোয়া সুন্দরবন, বাগলী ছড়া নদী, বাগলী শুল্ক ষ্টেশন, শনি-মাটিয়াইন হাওর ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেইজ রামসার সাইট মাদার ফিসারিজ অব টাঙ্গুয়ার হাওর।
ঢাকা সহ সারা দেশের যে কোন স্থান সুনামগঞ্জগামী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার কিংবা ব্যাক্তিগত গাড়ী নিয়ে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। এরপর সুনামগঞ্জ থেকে ফের বাস, মাইক্রোবাস ,প্রাইভেটকার, ব্যাক্তিগত গাড়ী, লেগুনা অটোরিক্সা করে সরাসরি তাহিরপুর উপজেলা সদর অথবা লাউড়েরগড় বাজার, বিন্নাকুলি বাজার, মিয়ারচর খেয়াঘাট পাড়ি দিয়ে উজেলা বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট এসে মোটর সাইকেল , ষ্পিটবোর্ড, ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে ইচ্ছেম মত দর্শনায় স্থান গুলোতে যাতায়াত করা যাবে।
কোন পর্যকট কিংবা দর্শনার্থী রাতে থাকতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলা, উপজেলা পরিষদের রেষ্ট হাউস, টাঙ্গুয়ার হাওরে হাওর বিলাস রেষ্ট হাউস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের তারেক আবাসিক হোটেল, মক্কা টাওয়ারের হোটেল আল-মদিনা আবাসিক, বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনের জয়বাংলা বাজারে হোটেল খন্দকার আবাসিক, টেকেরঘাটের অতিথি ভবনে থাকতে পারবেন। পর্যটক কিংবা দর্শনার্থীরা স্থানীয় এলাকায় থাকা আত্বীয়-স্বজন ছাড়াও পূর্ব পরিচিত কেউ থাকলে যাতায়াত কিংবা থাকা খাওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথেও আসার পূর্বে পরামর্শ করে নিতে পারেন। এছাড়াও জেলা সদর ও শিল্প নগরী ছাতক শহরে ভালো মানের একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। জেলা সদর থেকে একই পদ্ধতিতে দোয়ারাবাজার ও ছাতকেও যাতায়াত করা যায়।
জেলার ছাতকের রয়েছে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, বৃটিশ আমলের ইংলিশ টিলা, লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় রয়েছে, বাঁশতলা শহীদ মিনার ও বীর শহীদদের কবরস্থান, টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড, সীমান্তনদী খাসিয়ামারা, আদিবাসী পল্লী ঝুমগাঁও।
জেলার সদর উপজেলায় রয়েছে মরমী কবি সাধক পুরুষ হাসন রাজার বাড়ি ও মিউজিয়াম, ডলুরা শহীদ মিনার ও সীমান্তহাট ব্যাক্তিক্রম শুধু জেলার ধর্মপাশার মধ্যনগরের মহেষখলায় যাতায়াতের বেলায়। মহেষখলা যেতে হলে দেশের যে কোন স্থান থেকে রাজধানী ঢাকা হয়ে প্রথমে বাস কিংবা ট্রেনে চরে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ আসতে হবে। এরপর মোহগঞ্জ থেকে মোটর সাইকেল লেগুনা, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস নিয়ে ধর্মপাশার মধ্যনগরের সুমেশ্বরী নদীর কাইতকান্দা খেয়া নৌকা পাড়ি দিয়ে মধ্যনগর থানা সদরে যেতে হবে। এরপর পুন:রায় মোটর সাইকেল অথবা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর, মহেষখলা সীমান্তনদী, মহেষখলা শহীদ স্মৃতি সৌধ দেখা যাবে। এছাড়া রয়েছে গোটা সীমান্তজুড়ে আদিবাসী পল্লী। ধর্মপাশা থেকে রওয়ানা দিয়ে গাড়ী থামিয়ে যাত্রাথেই দেখা যাবে বাদশাগঞ্জ বাজারের সেলবরষ গ্রামের প্রয়াত জমিদার তোতা মিয়ার প্রাচীন বাড়ি।
লেখা ও ছবি- হাবিব সরোয়ার আজাদ, গণমাধ্যম কর্মী এবং উপ-পরিচালক , পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটি , ঢাকা-বাংলাদেশ। মুঠোফোন (০১৭১২-০৪০৩৫৮) ই-মেইল  ( smhsazadj@gmail.com
এই লেখা , ছবি কোন প্রিন্ট বা অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত হোক বা না হোক লেকখের অনুমতি ছাড়া এই লেখা হুবুহু অন্য কোন মাধ্যমে প্রকাশ কিংবা ছবি বিকৃত অথবা ছবি ব্যবহার না করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করা হল।

Top