News logo
Monday 22nd April 2019

জঙ্গি ‍মুন্না ফিরল নতুন বউ নিয়ে



জুলাই ২৫, ২০১৬ | ১৮:৪৯:১৭

অনলাইন ডেস্ক:

দুই বছর আগে বাড়ি ছাড়েন কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না (২৪)। গুলশান হামলার পর সারা দেশে নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

পরিবারের সন্দেহ ছিল তাদের সন্তান জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। পুলিশ পরিবারের সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা হিসেবে জেলার অন্য চার জঙ্গির সঙ্গে মুন্নাকে তালিকাভুক্ত করে পাঁচ জঙ্গির পোস্টার ছাপায়। সেই ‘জঙ্গি’ মুন্না সোমবার নতুন বউ সঙ্গে করে বাড়ি ফিরল। আর এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের।

এর আগে পুলিশ নিখোঁজ পাঁচজনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টাতার সন্দেহে পোস্টার ছাপায়।

রোববার সেই পোস্টার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই পাঁচজনের একজন যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আবদুস সোবাহানের ছেলে কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না।

মুন্না সোমবার নতুন বউ নিয়ে বাড়িতে হাজির হয়।

রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার ইসলামবাগের মনির খানের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মুন্না।

বউকে বাড়িতে রেখেই সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মুন্না ও তার মা, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় হাজির হন। থানার বারন্দায় দাঁড়িয়ে নিখোঁজের পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন মুন্না।

মুন্না বলেন, দুই বছর আগে টেলিভিশনে খেলা দেখা নিয়ে মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করে ঢাকায় চলে যান। বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।

শনিবার মোবাইল ফোনে বিয়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে জানতে পারেন পুলিশের সন্দেহভাজন জঙ্গি তালিকায় তার নাম রয়েছে। বিয়ের ব্যাপারে শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় যান।

রোববার দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরান ঢাকার ইসলামবাগ এলাকার মনির খানের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মুন্না।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে মুন্না বলেন, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করে ঢাকায় চলে যান। কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে কাজ নেন। এরপর পুরান ঢাকার ইসলামবাগে মাইশা প্লাস্টিক কোম্পানিতে চাকরি নেন। সেখানে থাকার সুবাদে ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর মেয়ের পরিবার থেকে বলা হয় অভিভাকরা না আসলে বিয়ে হবে না। মুন্না শনিবার বাড়িতে যোগাযোগ করে বিয়ের কথা জানান। দুই বছর পর ছেলের সন্ধান পেয়ে মুন্নার স্বজনরা ঢাকায় যায়। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

মুন্না বলেন, ২০০৯ সালে সরকারি সিটি কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলাম। এরপর আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া হয়নি। ২০০৯ সালের পর থেকে আর কলেজেই যাইনি। দুই বছর আগে বাড়ি ছাড়ি। এরমধ্যে পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু মাঝে এলাকার এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ঢাকায়। তার কাছ থেকে পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছিলাম।

এদিকে গত ১০ জুলাই পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় মুন্নার নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশ পাঁচজন জঙ্গির ছবি সংযুক্ত পোস্টার হস্তান্তর করেছে কমিটির সদস্যদের মধ্যে।

Top