News logo
Monday 9th December 2019

নাশকতা না থামালে আরও কঠোর হব : প্রধানমন্ত্রী



জানুয়ারি ১৪, ২০১৫ | ১৯:০২:২০

বিশেষ প্রতিনিধি :
নাশকতা না থামালে সরকার আরও কঠোর হবে বলে বিএনপি-জামায়াতকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রংপুরে বাসে আগুন দিয়ে চারজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে গতকাল রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এর নিন্দা জানানোর ভাষা তার জানা নেই। বরং আমি এটাই বলব, এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। আর তা না হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমাদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতির ভবিষ্যত্ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের কর্মকাণ্ড কোনো রাজনীতির পর্যায়ে পড়ে না। তারা সর্বোচ্চ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা তো রাজনীতি নয়। এটা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, এটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এদের বিরুদ্ধে সারাদেশকে, সারাদেশের মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহম্মদ আলমগীর বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে কাজ করেছে তাতে বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসন পেয়েছে, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আমরা শিক্ষা বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়েছি। আর বিএনপি-জামায়াত শিক্ষা বছরের শুরুতেই লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনেও হরতাল ডেকেছে এবং বিশ্ব ইজতেমার সময়ে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আবার এরাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। এরা আগুন দিয়ে মানুষ মারছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারা, এটা কী ধরনের আন্দোলন-এটা আমি জানি না। আমরা রাজনীতি করি তো মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কথা চিন্তা করে মানুষকেই যদি মারা হয়, মানুষকেই যদি এভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়, একেকটা পরিবারকে যদি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে কার জন্য রাজনীতি? কিসের জন্য রাজনীতি?
শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ধর্মের চেতনা অনুধাবন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কেউ তাদের ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ত করতে না পারে এজন্য ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে জাতীয়করণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও ৯৫১ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে স্কুলের নিজস্ব তহবিল তৈরি করার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার মনে হয় স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল কমিটি, স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার সম্পদশালী মানুষেরা যদি সবাই একত্রিত হন, তারা যদি সহযোগিতা করেন এবং প্রত্যেকটা স্কুল যদি নিজস্ব একটা তহবিল তৈরি করে, মিড ডে মিলের ব্যবস্থা যদি করে তাহলে মনে হয় ঝরেপড়া অনেকটাই কমে যাবে। এ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের দরিদ্র বাবা-মাকে ভাতা দেওয়া, মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া কমে গেছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছরে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে সাড়ে চার কোটিতে পৌঁছেছে। তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্কুলেও কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রমে ‘ই-বুকের’ প্রাধান্য থাকবে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ, কম্পিউটারের যুগ, ল্যাপটপের যুগ, পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা চাই, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা একগাদা বই হাতে করে যাবে না। তাদের হাতে একটা করে ল্যাপটপ থাকবে, অথবা আইপ্যাড থাকবে।

Top