News logo
Saturday 23rd March 2019
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সাব-রেজিস্টারি অফিসে পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ কমিশন বাণিজ্য

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সাব-রেজিস্টারি অফিসে পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ কমিশন বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা সাব-রেজিস্টারি অফিসে পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ কমিশন বাণিজ্য। বিগত পাঁচ বছরে কমিশনের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারি ও দলিল লেখক সিন্ডিকেট। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এলাকাভিত্তিক জমির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে জমি ক্রয়-বিক্রয় হলেও দেখানো হচ্ছে সরকার নির্ধারিত মূল্য। তাছাড়া কমিশনের নামে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। জেলা রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলা সাব-রেজিষ্টারি অফিসের মাধ্যমে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে সম্পাদিত দলিলের মোট মূল্য ৩০৭ কোটি ৩২ হাজার ৪০০ টাকা। এরমধ্যে ২০১০ সালে বড়লেখা সাব-রেজিষ্টারি অফিসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৯৪টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে। এসব দলিলের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪০ টাকা। এসব দলিলের বিপরীতে সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৪ টাকা। মোট দলিল মূল্য থেকে শতকরা ১ ভাগ হারে ৪১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৪ টাকা অবৈধ কমিশন বাবদ সাব-রেজিষ্টার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা যায়।
২০১১ সালে অত্র অফিসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৭৭০টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে। এসব দলিলের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ৪২ লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ টাকা। এসব দলিলের বিপরীতে সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ৩৬৪ টাকা। মোট দলিল মূল্য থেকে শতকরা ১ ভাগ হারে ৫৩ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ টাকা অবৈধ ভাবে কমিশন নিয়েছেন সাব-রেজিষ্টার।
২০১২ সালে অত্র অফিসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৮৪টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে। এসব দলিলের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৯ টাকা। এখানেও মোট দলিল মূল্য থেকে শতকরা ১ ভাগ হারে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬২ টাকা অবৈধ কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছেন সাব-রেজিষ্টার।
২০১৩ সালে অত্র অফিসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৮১টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে। এসব দলিলের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৮০ টাকা। তাছাড়া সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৮ টাকারও বেশি। এখানে মোট দলিল মূল্য থেকে শতকরা ১ ভাগ হারে ৭৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮ টাকা অবৈধ কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছেন সাব-রেজিষ্টার।
২০১৪ সালে অত্র অফিসের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭৪৮টি দলিল সম্পাদিত হয়েছে। এসব দলিলের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার ১৫০টাকা। এর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১০ টাকারও বেশি। মোট দলিল মূল্য থেকে শতকরা ১ ভাগ হারে ৬৩ লাখ ৯ হাজার ২৫১ টাকা অবৈধ কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

Top