ব্রেকিং নিউজ
 জুড়ী সাগরনাল চা বাগানের বিরুদ্ধে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বন বিভাগের ভুমি জবর দখলের অভিযোগ

 জুড়ী সাগরনাল চা বাগানের বিরুদ্ধে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বন বিভাগের ভুমি জবর দখলের অভিযোগ

আব্দুর রব, বড়লেখা থেকে:
জুড়ী উপজেলার সাগরনাল চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বন বিভাগের ব্যাপক ভুমি কয়েক যুগ ধরে জবর দখল করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বন বিভাগ চা বাগানের দখলে থাকা ১৪ একর ভুমি উদ্ধার করেছে। জবর দখলিয় ভুমি নিয়ে বাগান পক্ষ ও ব্যক্তি মালিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌলভীবাজার গত ২০ এপ্রিল বিরোধিয় ভুমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। জবর দখলিয় ভুমি নিয়ে যে কোন সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সাগরনাল চা বাগান মালিক দীর্ঘদিন ধরে আমজুর মৌজায় বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগে স্থানীয় আপ্তাব আলী, ইসমাইল আলী, ময়না মিয়া, তাহির আলী, ফরিদ আলী, মইন উদ্দিন গংদের রেকর্ডিয় ব্যাপক ভুমি জবর দখল করে ভোগাধিকার করছেন। সহকারী কমিশনার (ভুমি) বরাবরে ভুক্তভোগীদের সীমানা নির্ধারনের আবেদনের প্রেক্ষিতে জরিপ শেষে গত ৭ এপ্রিল সার্ভেয়ার মো: চান্দ বেগ ভোক্তভোগীদের রেকর্ডিয় ১৬.১৮ একর ভুমি চা বাগানের জবর দখলিয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাগরনাল টি.ই মৌজার ১, ৪, ৭, ৮, ৯, ১০, ২৩৩ ও ৪৪৪ নম্বর দাগের উত্তর অংশে বন বিভাগের প্রায় ১০০ একর, ঘাইলাকোনা আনডর এলাকায় ফিসারী লেবার লাইন ও চা বাগান করে আরও প্রায় ১০০ একর, আমজুর মৌজার উত্তর ও পূর্ব অংশে পৃথক ১৫ দাগে প্রায় ৬১ একর, হাড়ারগজ রিজার্ভের প্রায় ৩শ’ একর ভূমি বাগান কর্তৃপক্ষ জবরদখল করে রেখেছে।
জুড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম ইবনুল হাসান ইভেন সাগরনাল চা বাগানের ভূমি নিয়ে বন বিভাগ ও ব্যক্তি মালিকদের মধ্যে বিরোধ চলার সত্যতা স্বীকার করে জানান সরকারী জরিপে স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৬.১৮ একর ভুমি চা বাগানের দখলে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাগরনাল চা বাগানের সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: কামরুল মোজাহিদ জানান, বন বিভাগের প্রচুর জমি সাগরনাল চা বাগানের জবর দখলে রয়েছে। গত মাসে আমজুর মৌজা থেকে ১৪ একর ভূমি বন বিভাগ উদ্ধার করেছে। দখলিয় অন্যান্য ভুমি উদ্ধারে বন বিভাগ জপির মাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
সাগরনাল চা বাগানের ব্যবস্থাপক সুজিৎ কুমার সাহা জানান, কিছু লোক বাগানের দেড়শত বছরের ভোগ দখলিয় ও টি প্ল্যান্টেশনকৃত ভুমি তাদের দাবী করে গত ৫ এপ্রিল থেকে চা শ্রমিকদের যাতায়াতে বাধা প্রদান করছে। ২০ এপ্রিল অহেতুক তারা আদালতের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা জারি করে। বাগান মালিক রোববার উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে তাদের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেছেন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*