ব্রেকিং নিউজ
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়

১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়

বাংলাকাগজটুয়েন্টিফোরডটকম ডেক্সঃ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি শুক্রবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দেন শেখ হাসিনা।

পরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দেশের সব জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম বাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে।nnnn_187_0

এরপর থেকেই বৈদ্যনাথ তলা মুজিবনগর হিসাবে পরিচিত। আর দিনটি পালন করা হয় মুজিবনগর দিবস হিসাবে।

অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব দেবে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ প্রটোকলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি সরকারি সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন- এটা নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন।”

সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হওয়ার আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। কেউ অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।”

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

এরপর ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।

২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয় সেই ঘোষণাপত্রে।

ঘোষণাপত্রে দেশের সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ জাতির উদ্দেশে বেতার ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে প্রচার করা হয়।

তাজউদ্দিনের ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারে- বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে।

১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে শপথগ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরদিন এ খবর দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা এবং সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্মরণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাসহ বিশ্ব দরবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি, শরণার্থীদের সহায়তা, যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানোসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মুজিবনগর সরকার গঠনে যারা সহযোগিতা করেছিলেন তাদের অবদানকে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাই মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, “স্বাধীনতা চেতনা ও উন্নয়ন বিরোধী অপরাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ এখন একতাবদ্ধ।

“ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি দেশবাসীকে বঙ্গবন্ধুর কাক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

মুজিবনগর সরকারে যাঁরা ছিলেন

১. শেখ মুজিবুর রহমান (প্রেসিডেন্ট)

২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট)
৩. তাজউদ্দিন আহমেদ (প্রাইম মিনিস্টার)
৪. কর্নেল এম এ জি ওসমানী (কমান্ডার-ইন-চিফ, মুক্তিবাহিনী)
৫. মনসুর আলী (মিনিস্টার অব ফিন্যান্স অ্যান্ড প্ল্যানিং)
৬. খন্দকার মোশতাক আহমদ (মিনিস্টিার অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যন্ড ল’)
৭. এ এইচ এম কামারুজ্জামান (মিনিস্টার অব হোম অ্যাফেয়ার্স, রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন)
৮. আব্দুল মান্নান (এম. এন. এ. ইন চার্জ অব মিনিস্ট্রি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেডিও, স্বাধী

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*