ব্রেকিং নিউজ
হাকালুকির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চাহিদার তুলনায় কম পাচ্ছে ওএমএসের চাল

হাকালুকির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চাহিদার তুলনায় কম পাচ্ছে ওএমএসের চাল

 

আব্দুর রব, বড়লেখা থেকে :

হাকালুকি হাওরপারের বোরো ফসল হারানো হাজার হাজার কৃষকের দুর্ভোগ যেন থামছে না। ১৫ টাকা কেজি দরের ওএমএসের চাল বিক্রী গত ৮ মে থেকে শুরু হলেও তালিমপুর ইউনিয়নে চালু করা বিক্রয় কেন্দ্রটি দুর্গত এলাকা থেকে অনেক দুরবর্তী স্থানে হওয়ায় এর সুফল ভোগ করেননি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা। অবশেষে হাওরপারের কানুনগো বাজারে চালু হয় খোলা বাজারে চাল বিক্রী। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও দুর্গত মানুষজন শেষ পর্যন্ত চাল না পেয়ে খালি হাতেই ফিরছেন। মঙ্গলবার দুপুরে হাকালুকি হাওরপারের দুইটি বিক্রয় কেন্দ্রে হতাশার এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, হাকালুকিপারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ও সুজানগরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্যায় বোরো ফসল হারিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। গত ৯ মে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হাকালুাকির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে আগামী বোরো ফসল ঘরে উঠার পূর্ব পর্যন্ত হাকালুকি হাওরপারের বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস এবং ৬ হাজার ভিজিএফ কার্ডের ঘোষণা দেন।
দুর্গত লোকজন ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে উপজেলা প্রশাসন নিয়োগ দেয় চারজন ওএমএসের ডিলার। গণহারে ক্ষতিগ্রস্ত তালিমপুর ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দুরবর্তী স্থানে। ফলে সরকারের আসল উদ্দেশ্য দুর্গত মানুষের পাশে দাড়ানোর মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এসব দুর্ভোগ নিয়ে ৯ মে যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে উপজেলা প্রশাসন দুরবর্তী স্থানের ডিলার বাতিল করে তালিমপুর ইউপির কানুনগোবাজারে খোলা বাজারে চাল বিক্রীর ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেন। অবশেষে ৮ দিন পর সফিক উদ্দিনকে প্রতিদিন জনপ্রতি ৫ কেজি ২০০ দুর্গত মানুষের নিকট বিক্রীর জন্য ১ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে সুজানগর ইউনিয়নের আজিমগঞ্জ বাজারের ওএমএসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় দুর্গত মানুষের দীর্ঘ লাইন। ডিলার মোক্তার আলী জানান, প্রতিদিন ২০০ মানুষের নিকট চাল বিক্রীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু দোকান খোলার সাথেই ৫০০-৬০০ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় জমান। এ অবস্থায় বরাদ্দ শেষ হওয়ায় বিক্রী বন্ধ রাখতে গিয়ে চাল না পেয়ে লোকজন ক্ষুব্দ হয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে। সরবরাহ না বাড়ালে চাল বিক্রী নিয়ে নানা ঝামেলা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে।
ওএমএসের চাল কিনতে আসা সুজানগর ইউপির সালদিগা গ্রামের ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস, মাখন দাস, রিপন দাস, ভোলারকান্দি গ্রামের রুশনা বেগম, পারভিন বেগম জানান, ৫ কেজি চাল কিনতে কয়েক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে ডিলার জানায় চাল শেষ। এভাবে তারা গত ২ দিন চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন। নুর ইসলাম জানান, ৫ কেজি চালের জন্য সমস্থ দিন চলে যায়।
তালিমপুর ইউনিয়নের ওএমএসের দোকানে কয়েকশ’ নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন থাকতে দেখা গেছে। ডিলার সফিক উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে ১৫০ জনকে চাল দেয়া শেষ করেছেন। লাইনে অন্তত ২০০ জন দাঁড়ানো রয়েছেন। আরো ৫০ জনকে দেয়ার পর বাকী লোকজনকে চাল নেই বলা মাত্রই বিশৃঙ্খলা শুরু হবে।
সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলী ও তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ টন চাল বিক্রীর ব্যবস্থা নিলে লাইনে দাঁড়ানো দুর্গত লোকজন অন্তত চাল না নিয়ে ফিরবেন না।
বড়লেখা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল জানান, ওএমএসের বরাদ্দ দিগুণ করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*