ব্রেকিং নিউজ
স্বামীর কবরে চির নিদ্রায় শায়িত আসমা কিবরিয়া

স্বামীর কবরে চির নিদ্রায় শায়িত আসমা কিবরিয়া

বাংলাকাগজটুয়েন্টিফোরডটকম ডেক্সঃ বনানী কবরস্থানে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কবরে চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তার স্ত্রী চিত্রশিল্পী আসমা কিবরিয়া।

সোমবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসমার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মায়ের ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়। এরপর ৯টা ১০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিকালে আসরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে আসমা কিবরিয়ার জানাজা হয়। সন্ধ্যায় বনানী কবরস্থান মসজিদে আরেক দফা জানাজার পর সেখানেই তার দাফন হয়।

আসমা কিবরিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অনেকেই শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ বিশিষ্টজনরা আজাদ মসজিদে আসমা কিবরিয়ার জানাজায় অংশ নেন।

তার দাফনের সময় সাংসদ দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্বজনরা বনানী কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন।

রেজা কিবরিয়া জানান, তার মা গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার টিউমার অপসারণ করা হয়। এর পর থেকে তাকে নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাফেরা করতে হচ্ছিল।
১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া আসমা চিত্রকলা নিয়ে লেখাপড়া করেন নিউ ইয়র্কের উন আর্ট স্কুল ও ওয়াশিংটনের কোরকোরান স্কুলে।

ওয়াশিংটনে সমসাময়িক মার্কিন শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সূত্র ধরে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলায় প্রভাবিত হন তিনি। তার কাজ নিয়ে ব্যাংককসহ বিভিন্ন শহরে এ পর্যন্ত দশটি একক প্রদর্শনী হয়েছে।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভা শেষে ফেরার সময় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আসমার স্বামী শাহ এ এম এস কিবরিয়া।

কিবরিয়া ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের প্রথম দিকের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি ছিল আসমার।

কিবরিয়া হত্যা মামলার প্রথম সম্পূরক অভিযোগপত্রে ‘আসল অপরাধীদের’ আড়াল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ছিল তার।

স্বামীর হত্যার বিচারের দাবিতে ‘শান্তির জন্যে নীলিমা’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন আসমা কিবরিয়া। ২০০৭-০৮ সময়ে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ওই কর্মসূচি চালিয়ে নিতে বাধা দেওয়া হয় বলে তার অভিযোগ ছিল।

শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আসমা কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া একজন অর্থনীতিবিদ। আর তাদের মেয়ে নাজলী কিবরিয়া বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*