ব্রেকিং নিউজ
সাতক্ষীরায় ১০ লাখ ধান চাষীর মাথায় হাত

সাতক্ষীরায় ১০ লাখ ধান চাষীর মাথায় হাত

আবু সাইদ বিশ্বাস:সাতক্ষীরা থেকে: ইরি ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাতক্ষীরার কৃষকরা। প্রায় ১০ লক্ষ কৃষকের চোখে মুখে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে । এক দিকে সপ্তাহ জুড়ে বিরুপ আবহাওয়া অন্যদিকে ধানের দাম কম। এঅবস্থায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংঙ্কায় পড়েছে কৃষকরা। কথা হয় পাটকেলঘাটার খলিষখালি ইউনিয়নের মঙ্গলানন্দকাটী গ্রামের কৃষক কওছার শেখের সাথে। তখন রাত নয়টা। ধান তুলতে ব্যস্থ। তার সাথে হাতে হারিকেন ঝুলিয়ে তার প্রথম ণ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে। বললেন, আকাশে মেঘ। যে কোন সময় বৃষ্ঠিত আসতে পারে। তাই রাতের মধ্যেই ধান ঘরে তুলতে হবে। তাছাড়া ‘জন’ পাওয়া যাচেছ না। 6(1)ধান ঘরে তুলতে না পারলে তার সব শেষ হয়ে যাবে। এরকম অবস্থা জেলার সব কৃষকের। কৃষকরা জানান,বিঘা (৩৩শতক) প্রতি বোরো ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যে খানে ধান হয়েছে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ মণ হারে। সাতক্ষীরার বাজারে বর্তমানে ধানার বাজার মূল্য মণ প্রতি ৬শ থেকে ৭শ টাকা। সে হিসাবে ১৫ মণ ধানের দাম ৯ হাজার থেকে ১০হাজার টাকা। অর্থাৎ কৃষকের বিঘা প্রতি ক্ষতি হচেছ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। বীজ,সার,ওষুধ, ডিজেল ও বিদ্যুতের চড়া মূল্যের কারণে ধানের উৎপান খরচ বেশি বলে কৃষকরা জানান। অন্যদিকে সরকার বলছে কৃষকদের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে কৃষকদের মাধে বিনামূল্যে সার বীজ সহ কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক কৃষকরা জানান,সরকারের পক্ষ থেকে তারা কোন সুবিধা পায়নি। জেলায় এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে দাবী জেলা কৃষি অফিসের। এবার ৭২ হাজার ৫শ ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫শ ৮৮ মেট্রিক টন ধান। জেলার ধান চাষীরা ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় করার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ-এর উপ-পরিচালক সোলায়মান আলী জানান, সদর উপজেলায় ৩৭১৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ৪০০০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ছিল ১৭ হাজার ৭শ ২৯ মেট্রিক টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টন। সদরে উফশী আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। সদরে উফশী ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭ হাজার ৪শ ৯৫ মেট্রিক টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৮৭ হাজার ৭শ ৬৮ মেট্রিক টন।তালা উপজেলায় হাইব্রিড ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২শ ২০ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ১২শ ৭০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৮শ ১৭ মেট্রিক টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৯ শত ৭৫ মেট্রিক টন। তালা উপজেলায় উফশী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৭ শত ৭০ হেক্টর জমিতে, সেখানে চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ১শ ৩০ হেক্টর জমিতে। 3উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ২শ ৭৫ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৫৮ হাজার ৫শ ২৮ মেট্রিক টন।কলারোয়া উপজেলায় হাইব্রিড ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৯০ হেক্টর জমিতে, সেখানে চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ১১শ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৭শ ২১ মেট্রিক টন, সেখানে চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৫শ মেট্রিক টন। কলারোয়া উপজেলায় উফশী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২শ ২ হেক্টর জমিতে। উফশী ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ১শ ৩৯ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৪৪ হাজার ৮শ ৮০ মেট্রিক টন।দেবহাটা উপজেলায় হাইব্রিড ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭শ ৫০ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৩শ ৪৪ মেট্রিক টন, সেখানে চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৬শ ৩৫ মেট্রিক টন। দেবহাটা উপজেলায় উফশী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩শ ১০ হেক্টর জমিতে, সেখানে চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ হাজার ৭ শত ৬৫ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন।কালিগঞ্জে হাইব্রিড আবাদের ধান লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৯০ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ৭৬০ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭শ ৬৭ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদান হয়েছে ৩ হাজার ৬ শত ১০ মেট্রিক টন। কালিগঞ্জে উফশী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫শত ২৬ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫ শত ৬০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ২শ ৪৫ মেট্রিক টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজর ৮শ ৭২ মেট্রিকটন।আশাশুনি উপজেলায় হাইব্রিড আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫০ হেক্টর জমিতে, সেখানে চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ১১২০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০৯৯ মেট্রিক টন, সেখানে চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৪৮১৬ মেট্রিক টন। আশাশুনিতে উফশী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭শ ৪০ হেক্টর জমিতে, চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ১শ ৬০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮শ ৭১ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২৮ মেট্রিক টন। শ্যামনগরে হাইব্রিড আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮০ হেক্টর জমিতে, সেখানে চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ১২০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫৮ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৪৮০ মেট্রিক টন। শ্যামনগরে উফশী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬৮৫ হেক্টর জমিতে, সেখানে চূড়ান্ত আবাদ হয়েছে ১৩৮০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪২০ মেট্রিক টন, চূড়ান্ত উৎপাদন হয়েছে ৪৪১৬ মেট্রিক টন।গত বছর এ জেলাতে ধান উৎপাদন হয়েছিল ৩১৫৫২৮ মেট্রিকটন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*