ব্রেকিং নিউজ
সাইয়েদ জামিলের একগুচ্ছ কবিতা

সাইয়েদ জামিলের একগুচ্ছ কবিতা

কবিরাজ

যদি কবিরাজ হতাম তবে সরদ আলির মতো বৃক্ষ তপস্যা করতাম। হুগলিতে অসংখ্য গাছ আর গুল্মলতার আঁশ ছেঁচে শরীরকে পিওরিফাই করার সকল বিদ্যা আয়ত্ত করতাম। এবং নেট সার্চ ক’রে কোন্ জঙ্গলে কি পাওয়া যায় আর তা মানব শরীরের কী কাজে আসে তা নিয়ে রিসার্চ ক’রে কাটিয়ে দিতাম গোটা জীবন।

সাইকেল আরোহীর প্রতি

এই দিকে পথ নেই আর। তিন স্তন বিশিষ্ট এক উন্মাদিনীর হাহাকারের মতোন কেবলি অন্ধকার। জলের কিনারে ব’সে থাকা যুবকের অশ্রুপাত। আর ধ’সে যাওয়া পুরোনো সেতুর ওপর জমে থাকা শ্যাওলা। আর কখনও কখনও সেইখানে পিছলে পড়া দু-একটি অনুজ্জ্বল সত্য ছাড়া কিছু নেই। সাইকেল চালিয়ে তবু এই দিকে কারা আসে দূর মহাবিশ্ব থেকে! সাবধান, ওহে আরোহীগণ, যাতনার লাবণ্যে, আর, এই ঘন কাশবনে আপনারা হারিয়ে যেতে পারেন।

অবকাশ যাপনের ভঙ্গি

নারীকে ভাবুন একটি দরোজা। এবং সে প্রবেশমুখ দিয়ে ঢুকে যেতে পারেন অভ্যন্তরে। বিকেলে, ড্রয়িং রুমের সোফায় ব’সে ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিয়ে আলোচনা করতে পারেন হিউ হেফনার প্রসঙ্গে। সন্ধ্যা ঘন হ’লে, নির্জনতা মেশানো অন্ধকারে, বেডরুমে, খাট নয়, মেঝেতে আসন নিন। নারীটিকে বাজাতে বলুন আনন্দ-বেহালা। দেখবেন, পাখিতে রূপান্তরিত হয়ে আপনার শিশ্নটি উড়ে যাবে সুরের ম্যাজিকে। সেই সুর মন্থন করুন এবং বিশ্রাম করুন।

রাস্তা

মেয়েটা চিৎ হ’য়ে শুয়ে থাকতে ভালোবাসে।
সে জানে, আকাশ দেখতে হ’লে
এইভাবে শুতে হয়।

ওর দিকে ওভাবে তাকিয়ো না। ও থাক,
কিছুকাল ওভাবেই শুয়ে থাক। ইচ্ছে যাকে,
তাকে নিয়ে রগড় করুক।

—বজ্রবিদ্যুৎ গায়ে মেখে ফিরে সে
আসবেই। তারপর, তোমাকে সঙ্গে নিয়ে
সমুদ্রে পাড়ে হাওয়া খাবে।

তোমাদের সমুদ্র দেখা শেষ হ’লে
তুমি ওর হাত ধ’রে রাস্তাটা
পার ক’রে দিয়ো।

মিসিং পারসন

একবার আমি কুকুরে রূপান্তরিত হ’য়ে একটি মানুষের বাড়ি পাহারা দিতাম। বাড়িওয়ালা মাঝে মাঝে আমার দিকে হাড্ডি ছুঁড়ে দিতো। আমি খেতাম। অপরিচিত পায়ের আওয়াজ পেলে ঘেউ ঘেউ করতাম। একদিন, চারজন বালক এসে আমাকে বেদম পেটালো। তারা বললো, ‘কুকুরটা উন্মাদ।’ আমি, ঘটনার পরপরই লাভলু নামের এক পথচারিকে কামড়াই। আর, জলাতঙ্কে যেদিন লাভলুর মৃত্যু হয়, সেদিন বিকেলবেলা রেললাইন ধ’রে হাঁটতে হাঁটতে নিরুদ্দেশ হ’য়ে যাই।

হারানো জুতোর শোক

একদা, হারানো জুতোর শোকে হ’য়ে যাবো অন্ধ-বধির। বোবাকালা সেইসব দিনের ভেতর উত্তপ্ত বালুর ওপর হেঁটে যাবো নগ্নপদ। আহা! তীব্র সেই অপমান। অসহ্য ভার তার স্কন্ধে ল’য়ে, গোধূলির পাশে, একা কাৎ হ’য়ে শুয়ে থাকা প্রভূত দৃশ্যের সন্নিকট, কিছুটা স্নেহের পরবশ যদি চাই, পাবো কি তখন? জানি, মাছের কাঁটার মতো অ্যাবসার্ড বেড়ালেরা নিঁচুস্বরে সেইদিন আমাকে খাবে। আমার শরীর থেকে খ’সে পড়বে জারুলের স্মৃতি ও আত্মার সম্ভ্রম।

ওগো, যে আছো আত্মার প্রশস্ত রাস্তায়, আমাকে জুতো হারাবার শোক সইবার শক্তি দিয়ো।

ফরেস্ট বাংলোয় কফি খেতে খেতে লিখিত

ভাবো, বনের মধ্যে একটা শাদা বাড়ি।
সেই বাড়িতে দুজন বুড়ো-বুড়ি। ভর-দুপুরে
বেতের মোড়ায় ব’সে, কাফকা পড়ে বুড়ি;
তখন বুড়ো কাব্য ল্যাখে ঘাটে। দীঘির জলে
রূপোলি হাঁস ভাসে। এমন দৃশ্য প্রত্যহ যায় দেখা :
বুড়ির মাথায় শাদা চুলের খোঁপা;—
খোঁপা তো নয়, প্রাচীন কোনো দেশ!
সেই দেশেতে বুড়োর দুটি হাত, আস্তে-ধীরে,
নামিয়ে আনে রাত। রাতের আঁধার দেহের
‘পরে লোটে; একখানা চাঁদ তখন জেগে ওঠে।
চাঁদের আলোয় দেখছে বুড়ো-বুড়ি,
পরস্পরের কিংবদন্তী মুখ।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*