ব্রেকিং নিউজ
সরকার দলে থাকা সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: দলের হাইকমান্ডের প্রতি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবি

সরকার দলে থাকা সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: দলের হাইকমান্ডের প্রতি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবি

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রতি তোয়াক্কা না করে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে কতিপয় নেতা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

সরকারে থাকা সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে এখনই দলীয় ব্যবস্থা না নিলে এই হাইব্রিড নেতারাই এক সময় সরকার ও দলের জন্য বিপজ্জন হবে। সম্প্রতি মৌলভীবাজারে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে আদালত ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়ায় মৌলভীবাজারে রাজনৈতিক দলের স্বচেতন নেতাকর্মীরা হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে। তারা বলছেন সরকার দলের সুবিধা ভোগী নেতারা সরকার বিরোধীদের সঙ্গে এক মঞ্চে কেন। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা মোকাবেলায় দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ এবং শতর্ক থাকার আহ্বান জানানোর পরও তাতে গুরুত্ব না দিয়ে সরকারি বিরোধীদের সঙ্গে জোট বেধেছে। এই হাইব্রিড ও দলের সুবিধাভোগীদের এখনই দলীয় ব্যবস্থা না নিলে আওয়ামীলীগকে কঠিন মূল্য দিতে হতে পারে এমনটাই বলছেন সাধারণ মানুষ। সাংবাদিক সংগঠনের ব্যানার অপরাধীদের হাতে তুলে দিয়ে সরকার এবং আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে অবস্থানকারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এবং সরকার দলের নেতা দাবি করে যারা সরকার ও আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জামায়াত-শিবির-বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণতাণ্ত্রীক সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে আন্দোলনে নেমেছেন তাদেরকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত দুই-তিন দিন ধরে (১৮ ও ১৯ জুলাই)সরকার বিরোধী কতিপয় লোকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে শান্ত মৌলভীবাজারে। এদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবি, সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিকেও দেখা গেছে। সৎ ও ন্যায় পরায়ন মৌলভীবাজারের মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মো:শাহজালাল মহোদয়ের সুযোগ্য নেতৃত্বে পুলিশের সুশৃঙ্খলবাহিনীর কঠোর পরিশ্রমে মৌলভীবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভাল। এ ক্ষেত্রে র‌্যাব-৯ অপরাধ দমনে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এমতাবস্থায় এই চক্রটি আইনশৃঙ্খলার অবণতি ঘটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অপরাধ মুক্ত ও শান্ত পরিবেশের মৌলভীবাজারকে অশান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে আইনের আওতায় আনার জন্য আবারও দাবি জানাই। আর যারা সরকার দলের লোক পরিচয় দিয়ে দলীয় এবং প্রশাসনের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনকারিদের সঙ্গে কেন? প্রকাশ্যে সরকার বিরোধীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ গ্রহণকারি সরকারি দলের হাইব্রিড নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়ে দলের ভাবমুর্তি রক্ষা করার দাবি জানাই। প্রয়োজনে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করতে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে দাবি জানান।তারা বলেন, মামলা মোকাবেলার পবিত্র স্থান হলো আদালত। আদালত বা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়। এত ভয় কেন ? আদালতে মামলা মোকাবেলা করেন । রাজনৈতিক স্বচেতন লোকজন বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মামলার আসামী হতে দেখা যায়। কিন্তু তারা তো সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে যেতে দেখা যায়নি। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তারা করছেন না। বা করবেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা গণতন্ত্রের মানস কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক মাননীয় সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করেন।তারা বলেন, মৌলভীবাজারে আপনার দলের কারা জামায়াত শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আদালত ও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে সে বিষয়টি রাস্ট্রের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারি জড়িতেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রয়োজনে ভিডিও ফুটেজ  ও স্থির ছবি দেখে তাদের সনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।তারা বলেন ১৯৭১ সালে যারা এ দেশের স্বাধীনতা ও ভুখন্ডের বিরোধীতাকারি তারা তো গণতান্ত্রীক সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য নানা ষড়যন্ত্র ও কুটকৌশল করছে এবং করবে এটাই স্বাভাবিক।মাননীয় আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সাজা হওয়া এবং দন্ড কার্যকরের প্রতিবাদে আদালতের বিরুদ্ধে তারা হরতাল করেছে। সরকারকে বিপাকে ফেলতে সরকারের বিরুদ্ধে তারা নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত ভাবে করছে। এ দেশের শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার দলের পদবীদারি লোক, সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি কেন অংশ গ্রহণ করে ? আদালত এবং সরকারের বিরুদ্ধে কেন প্রকাশ্যে বক্তব্য দেবে। এরা কি দল এবং আইনের উর্ধ্বে ? এরা কেন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন না ? আমার প্রশ্ন এখানে। আপনি বা আপনারা মনে করতে পারেন মৌলভীবাজারের আন্দোলনে আর কি হবে বা হতে পারে। এরকম হালকা ভাবে কিন্তু বিষয়টি নেওয়া উটিৎ নয়। কারণ জেলার আন্দোলন ও এক সময় জাতীয় আন্দোলনে রশদ যোগাতে পারে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। তার এটি উদাহরণ হলো মাগুরার সে ভোট ও আন্দোলন। কি হয়ে ছিল মাগুরার আন্দোলন এটি তো রাজনৈতিক স্বচেতন সবার জানা। সাপ্তাহিক পাতাকুড়ির দেশ পত্রিকা ও মৌলভীবাজার টুয়েন্টিফোরডটকম অনলাইন সূত্রে জানা যায়, ১৮ ও ১৯ জুলাই মঙ্গল ও বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সরকার ও আদালতের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধন বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রাধাপদ দেব সজল, জেলা যুবলীগের সহ-দফতর সম্পাদক পান্না দত্তের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ শেষে বক্তব্য রাখেন সরকারি গণ মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হাসানাত কামাল প্রমুখ।

তথ্যসূত্র:- সাপ্তাহিক পাতাকুড়িরদেশ, বাংলানিউজনেটওয়ার্ক ও মৌলভীবাজার২৪ অনলাইন পোর্টাল।

বি:দ্র: এ সংক্রান্ত বাকি ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। প্রযুক্তিগত কারণে এই সংবাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হলো না-প্রতিবেদক।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*