ব্রেকিং নিউজ
রাজনগরে দুর্গত মানুষের পাশে ত্রান নিয়ে আলাল মোল্লা:হাওর কাউয়াদিঘী পাড়ের মানুষ তিন মাস পানি বন্দি

রাজনগরে দুর্গত মানুষের পাশে ত্রান নিয়ে আলাল মোল্লা:হাওর কাউয়াদিঘী পাড়ের মানুষ তিন মাস পানি বন্দি

 

মোস্তাক চৌধুরী,বিশেষ প্রতিনিধি : মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ আইয়া একটা দিন দেখছইন্না, সরকারি বেসরকারি কোন সাহায্য আমরা পাইছি না, ঘর থাকি বাইর হইতে পারিনা, নৌকা নাই, কোন দিকে হাতরাইয়া যাইতে অয়, নিজের কোন নলকূপ নাই, আশ পাশের বাড়িতে ও নাই। রাস্তাঘাট পানির নিচে ডুবে গেছে, রাস্তার উপর কমর পানি, কথাগুলো বললেন কেওলা মধুর বাজার রাস্তায় কমর পানি ভেঙ্গে নলকূপের পানি আন্তে যাওয়া রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কেওলা গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী হেপী বেগম।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার হাওর কাউয়াদিঘী অঞ্চলের চৈত্রের অকার বন্যা সহ পর পর তিন দফা বন্যার কারনে স্থায়ী রূপ নেওয়ায় এক লক্ষ মানুষ স্তায়ী ভাবে কাউয়াদিঘী হাওড়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জানাগেছে চৈত্রের অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢল নামার পর আরো দুই দফা বন্যায় সর্বনাশা মনু নদীর বাঁধ ভেঙ্গে উত্তাল হাওড় আর নদী রাক্ষসে হয়ে তাদের সবই গিলে খেয়েছে। দফায় দফায় বন্যায় তারা সব হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে গেছে। হাহাকার আর আর্থনাদ ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। বন্যা স্থায়ী রূপ নেওয়ায় তারা সর্বস্ত্র হারিয়ে, অনাহার আর অর্ধহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। রাজনগর উপজেলা ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে হাওড় কাউয়াদিঘী অঞ্চল। প্রথম চৈত্রের বন্যায় কাউয়াদিঘী হাওড়ে কাচা পাকা বোরো ফসল পানির নীচে তলিয়ে যায় হাওড়ের কিছুটা বোরো আবাধ রক্ষা হলে পর পর তিন দফা বন্যা ও মনু নদীর ভাঙ্গনে কাউয়াদিঘী হাওড়ের সমূহ বোরো আবাধ তলিয়ে গিয়ে সে এলাকার কৃষকের কাস্তের হাত আজ ভিক্ষুকের হাতে পরিনত হয়ছে। বোরো কাচা পাকা ধান পঁচে গলে গিয়ে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে হাওড়ের মাছ, হাঁস, গরু, ছাগল, মরক মহামারী আকার ধারন করে, রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাওড়ে চুন ছিটানোর পর মাস কানেক পরে কিছুটা হলেও হাওড় বিষমুক্ত হয়েছে, এরই মধ্যে মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃশ্ব রিক্ত হয়ে গেছে। বন্যা স্থায়ী রূপ নিলে, একলক্ষ মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পরে। ফসলাদী গরু, বাছুর, হাঁস, মোরগ সব হারিয়েও মানুষ এখন পানি বন্ধি বাড়ী থেকে বের হতে পারছেনা, ঘরের উপর এক দুই ফুট পানি, টপে রান্না বান্না করছে, কেউ কেউ ঘরের ভেতরে মেছাঙ্গী বেঁধে দিনাতিপাত করছে, কেউ কেউ গরু, ছাগল বিক্রি করে প্রান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্রে অথবা আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে। আর যারা হাওড়ে রয়েছেন তাদের চাল, চুলা কিছুই নেই তারপরও ভিটা মাটির মায়ায় বাড়ী ছেড়ে যায়নি। এই হাওড় কূলের মানুষের ঘরে ঘরে এক সময় নৌকা ছিল, তারা নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতেন, কিন্তু সর্বনাশা মনু-প্রকল্প কাশেমপুরের পাম্প হাউজ দিয়ে মনু প্রকল্পের ভেতরে লোকদের পানি সেচ করে শুকিয়ে রাখবেন বলে আশ্বাস দিলে, তারা নাও দড়ি ছেড়ে দিয়ে, আজ পড়েছে বিপাকে। তারা নৌকার জন্য হাট বাজারে যেতে পারছে না, অন্যের নৌকার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করছে, বাড়ী থেকে বের হতে পারছেনা। একদিকে নেই নৌকা, অন্যদিকে নেই টাকা পয়সা, ঘরের ভেতরে পানি, এ যেন এক মহামারী দেখা দিয়েছে। দুই দফা ত্রান দেওয়া হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাও ছিল একেবারে অপ্রতুল, খেউ ফেলে, কেউ পায়নি। দুর্গতরা অভিযোগ করেছেন, আমাদের মৌলভীবাজার আসনের সংসদ সদস্য্য সায়রা মহসীর এমপি উপজেলার দুর্গত এলাকায় ত্রান দিয়েছেন, তবে তা ছিল একেবারে অপ্রতুল, গতকাল হাওড় কাউয়াদিঘী এলাকার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের খেওলা, ধুলিজুরা, সারমপুর, পইতুরা, রক্তা গ্রামের তিনির নিজ এলাকায় দুর্গত মানুষের পাশে ত্রান নিয়ে গিয়েছিলেন, মৌলভীবাজরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী, পাঁচগাঁওয়ের, সাদা মনের মানুষ আলাল মিয়া (আলাল মোল্লা)। তিনি একেবারে নিঃশ্ব যারা তাদের বাড়ীতে পানি, মেঝেতে বসবাস করছেন, বাড়ী থেকে বের হতে পারছেন না। চাল চুলা যাদের নেই এরকম ২০০টি পরিবারে তিনি নিজ হাতে ত্রানের প্যাকেট দেন। ত্রান বিতরনকালে তিনির সাথে ছিলেন এস,এ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম এ মুহিত, মুক্ত খবর জেলা প্রতিনিধি মোস্তাক চৌধুরী, সাবেক স্থানীয় মেম্বার সিরাজুল ইসলাম ছানা, গীতিকার ও সুরকার উস্তার উদ্দিন, কণ্ঠ শিল্পী এস ডি শান্ত এলাকার মাতেব্বর মানিক মিয়া ও ইয়ালিছ মিয়া।
আলাল মোল্লার ত্রানের প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এককেজি চুয়াবিন , এককেজি ডাল, এক কেজি পিয়াজ, এক কেজি আলু, এককেজি চিড়া ও এককেজি চিনি সাথে ছিল স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট। এ ত্রান কয়েক দিনের জন্য হলে তারা নিঃশ্বাস পেলতে পারবে।
সরেজমিন সেই এলাকায় গেলে ধুলিজুরা গ্রামের ইয়াওর মিয়া বলেন ধান পান তো সব গেছে, ঘরে চাউল, খরচ, কিছু নাই, মরলে মরি কি করমু, এখন গরু চাইট্টা লইয়া পরছি বিপদে, স্কুলের পুকুরে রাখছি খুলা আকাশের নিচে, এখন তাদের খাধ্য দিতে পারছি না, হাওড়ে পানি আর পানি ঘাস নাই, খেরও নাই, না খাইয়া গরু একটা মরছে, বাকী তিনটা লইয়া বিপদে আছি, একই কথা বললেন রুসনা বেগম, বয়োজ্যাষ্ঠ আব্বাস আলী, খেওলা গ্রামের উস্তার মিয়া ও ছমির মিয়া। মানুষের খাবারতো নেই এখন গো খাদ্য নিয়ে তারা চরম পিপদে রয়েছেন। গরুর কথা জিজ্ঞেস করলে হাউ মাউ করে কেঁদে বললেন কেওলা গ্রামের ছায়াদ মিয়া, খেয়ে না খেয়ে ঘরের ভেতরে মেছাংঙ্গীতে দিনাতিপাত করছি কিন্তু চারটি গরু রেখেছিলাম ধুলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর পারে একটি গাভী বাচ্ছা দেওয়ার ছিল, রাতে বাচ্ছা দিয়েছে বাচ্ছাটি পুকুর পারের নিচে পরে মারা যায়। সর্বনাশা বন্যা তার সবকিছু নিয়ে গেল, এরকম শত শত নিঃশ্ব পরিবারের আহাজারী হাওড় কাউয়াদিঘী বাতাসে কান্না ভেসে বেড়াচ্ছে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*