ব্রেকিং নিউজ
মন্তব্য প্রতিবেদন: মৌলভীবাজারে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের পদবীধারি কতিপয় নেতার অবস্থান

মন্তব্য প্রতিবেদন: মৌলভীবাজারে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের পদবীধারি কতিপয় নেতার অবস্থান

মন্তব্য প্রতিবেদন

এম এ মোহিত:

সম্প্রতি মৌলভীবাজারে সরকার ও আদালতের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধীদের ডাকা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের কয়েকজন পদবীধারি নেতা সরকার ও দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোধগার করেন। এ বিষয়ে আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেই এবং একটি অনলাইনে বিস্তারিত সংবাদ প্রচার হয়। এই সংবাদটি প্রচার হওয়ার পর আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী এবং সরকার বিরোধী সভায় অংশ গ্রহণকারি এক আওয়ামীলীগ নেতা আমাকে ফোন দিয়ে বললেন আমাকে তিনি পাশের চেয়ারে বসিয়ে চা-কপি ইত্যাদি খাওয়ান এবং অনেক স্নেহ মমতা করেন। আমি এমনটি কেমনে করলাম। আমার প্রশ্ন চা কপির সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করা না করার কি সম্পর্ক থাকতে পারে? বিষয়টি আমার মাথায় আসছে না। সরকারে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে, আইনে থেকে আদালতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিবেন তাও আবার সরকার বিরোধীদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে। আর সে সংবাদ প্রকাশ করলে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে।এমনটি আমি বিশ্বাস করি না বা করতে চাই না। আমার পেশার সঙ্গে চা-কপির কি সম্পর্ক থাকতে পারে ? আপনি আরো বলেছেন, এ রকম প্রতিবাদ সভায় যোগদান করতে পারেন। এবং এটি সরকার বা আদালতের বিরুদ্ধে ছিল না। আইনী ব্যাখ্যা আপনি ভাল বুঝবেন। এ তর্কে আমি জড়াতে চাই না। তবে আমি একজন সুশিক্ষত সমাজের রাজনৈতিক স্বচেতন মানুষ হিসাবে মনে করি। যেহেতু জেলার সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি জেলার সর্বোচ্চ পুলিশ অফিসারের কাছে প্রেরণ করার পর ওই অফিসার থানায় পাঠান এবং থানা মামলা এফআইআর করেছে। আর এই মামলার আসামির পক্ষে সরকার বিরোধীদের আয়োজিত সমাবেশে আপনি বক্তব্য দিয়েছেন। আপনি যখনই সরকার বিরোধীদের হাতে হাত রেখে তাদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তখনই তো আপনার অবস্থান সরকারের বিপক্ষে চলে গেল। শুধু এখানেই শেষ নয়,আপনি কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।(ভিডিও রেকড)এর পরও আপনি বলছেন এটি সরকার বা আদালতের বিরুদ্ধে নয়। আপনার বক্তব্যের ছবি বা ভিডিও তো এটি প্রমাণ করে না। কোন ব্যক্তির দিকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলা আইনত অপরাধ। আর আপনি শতশত মানুষের সামনে মাইক হাতে নিয়ে আদালত, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শাসিয়ে বক্তব্য দিলেন সেটা কি অপরাধ নয় ?আমার সংগ্রহ করা ভিডিও এবং স্থির ছবি পর্যালোচনা করে দেখা যায় আপনার ডানে-বামে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরসহ সরকার বিরোধীরা আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সরকার বিরোধী লোকজনের সঙ্গে ব্যানার সামনে রেখে বক্তব্য দেয়া ছবি থাকার পরও আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন, সরকার বা আদালতের বিরুদ্ধে আপনি নয় ? সরকারি দলে থাকবেন, দলের বড় বড় একাধিক পদ নেবেন। আর সরকার ও দলের বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করবেন এমনটি কিভাবে হয়।আপনার উস্কানী মূলক বক্তব্যের পর দিন কুলাউড়ায় পরপর দুই দিন একই ইসূতে সরকার বিরোধী সমাবেশ হয়েছে। এর পর হতে পারে জেলার অন্যান্য উপজেলায় তারপর বিভাগে। তারপর দেশের প্রতিটি জেলায়। এর পর ঢাকায়।  তাহলে আপনি সরকার দলের লোক হয়ে দলের দুটি গুরুত্ববহ পদে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে ছড়িয়ে দিলেন আন্দোলন। সরকার পড়বে বিপাকে। তাহলে আপনি কি সরকার ও দলের ক্ষতি করলেন না ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল সরকার ও দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে তা মোকাবেলা করার জন্য এবং আপনাদের মত দলের পদবীধারি নেতাদের প্রধানমন্ত্রী বলার পরও আপনি সরকারের বিরুদ্ধে, দলের বিরুদ্ধে, আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দল এবং গণতান্ত্রীক সরকারের ক্ষতি করলেন। এটিই সঠিক। পরিশেষে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিণীত ভাবে বলতে চাই আমার পেশাগত বিষয় কব্জায় রাখতে আর কোন দিন চা-কপি খাওয়াবেন না। এ আপ্যায়ন ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে রাখার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন আমাদের সকলের। ধন্যবাদ।

বি:দ্র: এই লিখার সঙ্গে দেয়া তিনটি স্থির ছবি কি প্রমাণ করে না এখানে আপনার অবস্থান কি ? বাকি ছবি এবং ভিডিও তো এখানে দেয়ার প্রয়োজন নাই।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*