ব্রেকিং নিউজ
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে প্রাণী সম্পদ বিভাগের ক্ষতি ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে প্রাণী সম্পদ বিভাগের ক্ষতি ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি

এম এ মোহিত:
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে বোরো ফসল পচা পানিতে রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কৃষক ও গবাদি পশু পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হাকালুকিতে মাত্র ৩৬৭টির বেশি হাঁস মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলছেন রোগাক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে পর্যাপ্ত ঔষধ মজুত আছে এবং ৭টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। প্রাণী সম্পদ বিভাগ ক্ষতির পরিমাণ ২৬ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৪শ টাকা নিরূপন করেছে। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ইপিডেমেলোজিকেল ইউনিটের প্রধান ডেপুটি ডাইরেক্টর ডা: মো: সাইফুল ইসলাম গত সোম ও মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে হাকালুকি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আইইডিসিআর’র (রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট) দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। হাকালুকি পরিদর্শন করে গেছেন। সর্বশেষ অবস্থা সরেজমিনে দেখতে শনিবার হাকালুকি হাওর পরিদর্শনে আসছেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পাদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাকসুদুল হাসান খান।
হাকালুকি হাওরের পানি কমে পচা বোরো, ঘাস ও খড়ের ধ্বংস স্তুুপ ভেসে উঠেছে। মাছ ও জলজ জীব-বৈচিত্রের পচা গন্ধ এখনও বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃষক আক্রান্ত হচ্ছে খোস-পাসরায় এবং গবাদিপশু আক্রান্ত হচ্ছে খুরা রোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের দাবি হাকালুকি বেষ্টিত তিনটি উপজেলায় সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে নতুন করে কোন গবাদিপশু মারা যায়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আইইডিসিআর’র কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি দলের প্রধান ডা. কাজী মুনিসুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, হাকালুকির পানিতে দুষিত কোন পদার্থ আছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য ইন্সটিটিউটের ২ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে হাকালুকি হাওরের ৩টি স্পট থেকে পানির নমুণা সংগ্রহ করেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৪২টি গবাদিপশু, ১৫ হাজার ৯টি হাঁস-মুরগিকে টিকা প্রদান করেছে এবং ১ হাজার ১৩৭টি গবাদিপশু ও ১২ হাজার ৪১৬টি হাঁস-মুরগির চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাণী সম্পদ বিভাগ ক্ষতির পরিমাণ ২৬ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৪শ টাকা নিরূপন করে বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ছক আকারে এ রিপোট পাঠিয়েছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় আক্রান্ত তিন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ ১৫টি ইউনিয়নে ৬৭ হাজার ২২টি গরু, ১৫ হাজার ৭২টি মহিষ, ২১ হাজার ৮৬৫টি ছাগল,২ হাজার ৭১৯টি ভেড়া, ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯০টি মুরগি ও ৮৯ হাজার ৭৫৬টি হাঁস এবং ১৮ হাজার ৫শ হেক্টর চারন ভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হাকালুকিতে মারা গেছে মাত্র ৩৬৭টি হাঁস। প্রতিটি হাঁসের গড় মূল্য ধরা হয়েছে ২শ৫০ টাকা। তাছাড়া ১২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের পশু পাখির দানাদার খাদ্য ১২ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন। ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪৮ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন খড় এবং ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ২ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের ৯ হাজার ৩৯৩ মেট্রিক টন ঘাস নষ্ট হয়েছে। এবং ৫৩ হাজার ৪০০ টাকার পশু পাখি মারা গেছে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*