ব্রেকিং নিউজ
মৌলভীবাজারের হাওরে ৩২ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত

মৌলভীবাজারের হাওরে ৩২ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের হওর-বিলে ৩২ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হাওরের জলাশয় ও বিলে শুস্ক মৌসুমে সেচ দিয়ে মাছ শিকার করায় মাছের ভরা মৌসুমে এখন বাজার গুলোতে রীতিমত মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। যা কিছু মাছ পাওয়া যাচ্ছে তার দামও আকাশ ছোঁয়া। চোরাই পথে আসা ভারতীয় এবং আদানিকৃত মিয়ানমারের মাছ ও অপরিণত পোনা মাছই ভূক্তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 11169944_832745850094114_2630256920426623999_n অযতœ-অবহেলা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে এবং অনুক’ল পরিবেশ না থাকায় হাওর অধ্যুষিত এ জেলার মৎস্য ভান্ডার শুন্য হয়ে পড়েছে। সম্পদ হুমকির মুখে পাড়ায় ভরা মৌসুমে মাছ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাহাড় ও হাওর ঘেরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর নয়নকারা দৃশ্যের অধিকারি এ জেলার প্রায় অর্ধেক হচ্ছে হাওর-বাওর,বিল-ঝিল, ছোট-বড় নদ-নদীতে পরিপূর্ণ। তাছাড়া এশিয়ার বৃহৎ হাওর হাকালুকির অবস্থান এ জেলায় থাকলেও চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় মাছের সংকট রয়েছে পুরো জেলায়। এতে পেশাদার মৎস্যজীবি ও নিম্ন আয়ের ভূক্তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।  11160564_832746123427420_2873094766155833687_n বিগত বছর গুলোতে সৃষ্ট বন্যায় মৎস্য খামার ও জলাশয়ের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কারেন্ট জাল ব্যবহারে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধনের ফলে মৎস্য সম্পদ অংকুরে বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন। এক সময়ে মৎস্য ভান্ডার বলে খ্যাত মৌলভীবাজারের হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর, কাউয়াদীঘি হাওর, বড় হাওর, হাওর কড়াইয়াসহ জেলার জলাশয় গুলো দিনদিন মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে। বিলুপ্তির পথে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। খাল-বিলের তলদেশ শুকানোর কারণে দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতলা, মৃগেল, কালী বাউশ, পাবদা, শিং, মাগুর, কৈ ও রাণী মাছসহ ৩২ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 11173386_832745633427469_1853754969058668289_n জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষনা করা হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীভবাজার ও সিলেট জেলার কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ জুড়ে রয়েছে এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরের অবস্থান। এই হাওরের আয়তন প্রায় ৪২ হাজার একর। হাকালুকি হাওরে ১০৭ প্রজাতির দেশীয় মিটা পানির মাছ পাওয়া যেত। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক প্রজাতির মাছসহ আরও ৩২ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত। বিলুপ্ত মাছের মধ্যে রয়েছে চিতল, রিটা, বামোস, টাটকিনি, ঘারুয়া, রানী, একথুটি, নাফতানি, বাঘাইড়, চাকা, ঢেলা, বাচা, নাপতেকৈ, বাঁশপাতা, ফলি, রায়েক, ছেপচেলা, কুঁচে,টেংরা, গুজিআইড়মাছ। হাকালুকি হাওর প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী জানান, চিতল, রিটা, রানী, বাঘাইড়, বাঁশপাতা, ফলি, গুজিআইড় মাছ এখন আর দেখা যায় না। হাওরে অবাদে কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং বিল সেচে মাছ ধরা হাকালুকিতে মাছের বড় ক্ষতি করছে। মৌলভীবাজার জেলার মাছের চাহিদা ৩৬ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*