ব্রেকিং নিউজ
মৌলভীবাজারের শেরপুরে“শ্রীহট্ট” ইপিজেডের অধিগ্রহণকৃত ভূমির টাকা লাটপাটে অভিযোগের তীর ডিসির দিকে

মৌলভীবাজারের শেরপুরে“শ্রীহট্ট” ইপিজেডের অধিগ্রহণকৃত ভূমির টাকা লাটপাটে অভিযোগের তীর ডিসির দিকে

এম এ মোহিত,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে অবস্থিত‘শ্রীহট্ট” অর্থনৈতিক জোনের অধিগ্রহণকৃত ভূমির মূল্য বাবদ টাকা ভূঁয়া নামে দলিল ও পরচা জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 1
সম্প্রতি এই এলাকার অধিগ্রহণকৃত ভূমির কয়েকজন মালিক ও মালিকের উত্তরাধিকারগণ মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখার কয়েকজন কর্মচারির বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে ৩০ লাখ টাকা ভূঁয়া মালিককে প্রদানের সহায়তার অভিযোগ এনে এই ইপিজেড বা অর্থনৈতিক জোনের প্রকল্প পরিচালক বরাবরে প্রেরিত অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সিনিয়র সচিব, বিভাগীয় কমিশনার সিলেট এবং চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক উচ্চ পদস্থ কর্মর্কার কাছে সম্প্রতি এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি ভূমি মালিকরা। প্রেরিত অভিযোগে বলা হয় অধিগ্রহণকৃত জমির কয়েকটি দাগের ভূমির টাকা ভূঁয়া মালিকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। আর এতে সহায়তা করেছেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসনের এল এ শাখার সার্ভেয়ার মো: হাবিবুর রহমান, জারি কারক আবদুস সালামসহ অন্যান্য স্টাফদের যোগসাজশে ভূঁয়া ভূমি মালিক সুলেমান মিয়াকে ১১ শতক ভূমির মূল্যবাবদ ৩০ লাখ টাকা পাইয়ে দেয়ার শর্তে সাত লাখ টাকা উৎকোচ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঝরণা বেগম আব্দুল্লাহ মিয়া, বারমতিসহ কয়েকজন ভূমি মালিক প্রকল্প পরিচালক বরাবরে প্রেরিত ওই অভিযোগে উল্লেখ করেন ইতিপূর্বে তারা তাদের মিছ মামলা ৮৮/২০১৫-১৬ সৃজন করা হয় এবং ১১৮ নং বিবাদীর বিপক্ষে শুনানীর জন্য পরবর্তী তারিখ ১৩/০১/২০১৬ ধার্য্য করা হয়। ধার্য্য তারিখ ১৩/০১/১৬ ইং তারিখে উপস্থিত হলে এল এ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াছমিন সার্ভেয়ারের কাছ থেকে তারিখ নেয়ার জন্য বলেন। ভূক্তভোগিরা তখন বারবার সার্ভেয়ার রুহুল আমীনের কাছে গেলে তিনি তারিখ দিতে কাল ক্ষেপন করতে থাকেন। পরে নিরুপায় হয়ে তারা বিগত ২৬ ০১/১৬ তারিখে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগসহ আবেদন করেন। ২৬/০১/২০১৬ তারিখে সার্ভেয়ার রুহুল আমীন ১৫/০৩/১৬ ইং শুণানীর জন্য তারিখ দেন। কিন্তু শুনানীর দিন ১৫ মার্চ ধার্য্য থাকাসত্বেও ওই দনি শুনানী হয়নি। অভিযোগে বলা হয় সুলেমান মিয়া গংদের কাছ থেকে ১১ শতক জমির মূল্যবাবদ ৩০ লাখ টাকা পাইয়ে দেয়ার জন্য ভূঁয়া কাগজপত্র (দলিল ও পরচা) দাখিল করেন এল এ শাখায়।2 তখন তাদের মামলা শুনানী না হওয়াতে তাদের সন্দেহ হয় এবং তাৎক্ষনিক মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবগত করেন। তখন জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখবেন বলে আস্বস্ত করলেও কাজের কাজ কিছুই করেননি। অভিযোগে বলা হয় এল এ শাখার দায়িত্বে থাকা কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারি শতকরা ৫ ভাগ থেকে শতকরা ২০ ভাগ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে শতকরা ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ কমিশন নিয়ে ভূঁয়া নামে অধিগ্রহণকৃত জরিম টাকা তুলে নিচ্ছে। এতে প্রকৃত ভূমি মালিকরা সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শেরপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন“শ্রীহট্ট” ইপিজেড স্থাপনের উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরপরই অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকদের ভূমির মূল্য পরিশোধ করার জন্য ২০০ কোটি টাকার উপরে বরাদ্দ দেয়া হয় অধিগ্রহণকৃত ভূমির প্রকৃত মারিকদেরকে বিতরণের জন্য। কিন্তু মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং শেরপুর ইপিজেড এলাকাকে ঘিরে গজিয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। এই প্রতারক চত্রের সঙ্গে এল এ শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকৃত ভূমি মালিকরা তাদের ভূমির মূল্য পাচ্ছে না। পৃথক ভাবে একই অভিযোগে মোঃ সামসু মিয়া পিতা আবদুস সোবহান সাকিন শেরপুর নামক একজন ভূক্তভোগি মৌলভীবাজারের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মোকদ্দমা নং ২২/ স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করলে আদালত ১১৮ নং বিবাদী মৌলভীবাজারের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে বিবাদী করে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। মামলার আর্জিতে বর্ণীত বিষয় বস্তু ও গুরুত্ব বিবেচনা করে যেহেতু অত্র মোকদ্দমা দায়ের থাকাবস্থায় নালিশা ভূমির মধ্যে এল এ ১/১৪-১৫ নং মামলায় হুকুম দখলকৃত ক্ষতিপূরণের টাকা ১১৮ নং বিবাদী যাহাতে বিবাদীগণ বা অন্য কাহাকেও প্রদান করতে না পারেন তদমর্মে ১১৮ নং বিবাদী ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন মৌলভীবাজারের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। ওই আদেশে বলা হয়, এমতাবস্থায় বাদীর প্রার্থীত মতে এল এ ০১/১৪-১৫ নং মামলায় হুকুম দখলকৃত ক্ষতিপূরণের টাকা ১১৮ নং বিবাদী পক্ষকে কিংবা অন্য কাহাকেও প্রদান করা হতে কেন অন্তবর্তীকালীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা ১১৮ নং বিবাদী অর্থাৎ মৌলভীবাজারের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এল একে বারিত করা হবে না নোটিশ প্রাপ্তির ১৫দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নিদের্শ দেয়া হয়। কিন্তু আদালতের এই নির্দেশ জারির পরও মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান আর্থিক অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে এল এ শাখার মাধ্যমে ভূঁয়া ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের টাকা প্রদান করছেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান সরকারি সার্ভিস রুলস অমান্য করে ৩ বছর ৪ মাসের অধিক সময় ধরে বহাল তবিয়তে মৌলভীবাজারে একই পদে থাকায় দুর্নীতিবাজ কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির আর্ষিবাদে”মৌলভীবাজারের শেরপুরের ‘শ্রীহট্ট” অর্থনৈতিক জোনের অধিগ্রহণকৃত ভূমির টাকা লুটপাট করে অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলছেন। অথচ প্রকৃত ভূমি মালিকরা তাদের ভূমির ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। বুধবার বিকালে এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বৈশাখের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য মিটিং এ ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*