ব্রেকিং নিউজ
বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের হত্যা দিবস আজ

বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের হত্যা দিবস আজ


ফজলুল বারীঃ আজ অভিশপ্ত ২১ জুলাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের হত্যা দিবস। ১৯৭৬ সালের এদিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে এক প্রহসনের বিচারে তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে খুনি জিয়া। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় পাকিস্তানে ছিলেন কর্নেল তাহের। সেখান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। এরজন্যে প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানিরা নেত্রকোনার কাজলায় কর্নেল তাহেরদের পারিবারিক বাড়িটি জ্বালিয়ে দেয়! আর ‘স্বাধীনতার ঘোষকের’ স্ত্রী-সন্তানদের ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে আদর-যত্মে রেখেছে! মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া কর্নেল তাহেরকে এগারো নম্বর সেক্টর কমান্ডার করা হয়। একাত্তরের সেপ্টেম্বরে জামালপুরের ধানুয়া কামালপুরে এক সম্মুখ যুদ্ধে তিনি গুরুতর আহত হন। অপারেশন করে প্রাণে বাঁচাতে গিয়ে তার এক পা কেটে ফেলা হয়। এরপর একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে গেলেও মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন চির প্রাণবন্ত একজন মানুষ। এই মানুষটিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার মাধ্যমে জিয়া ইতিহাসে তার একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। কর্নেল তাহের হলেন পৃথিবীর প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী যাকে ফাঁসিতে হত্যা করা হয়েছে। আর তার খুনির নাম জিয়া। সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন কর্নেল তাহের। তার স্বপ্ন বুকে ধারন করে আজো যুবকেরা কাজ করে যাচ্ছে দেশে দেশে। ফাঁসির মঞ্চে যাবার আগে তার বলা ‘নি:শংক চিত্তের চেয়ে জীবনে বড় কিছু নেই’, আর ‘জন্মেছি পৃথিবী থেকে কাঁপাবো বলে কাঁপিয়ে গেলাম’ আজো অকুতোভয় সংগ্রামীদের প্রেরনার উৎস। প্রিয়তমা স্ত্রী লুৎফা তাহের, খুব ছোট তিনটি শিশু সন্তান মিতু, মিশু, যীশুকে রেখে যান কর্নেল তাহের। খুনের পর মিসেস লুৎফা তাহেরকে বাড়ি সহ নানাকিছু দিতে চেয়েছিলেন জিয়া-এরশাদ। কিন্ত তিনি কিছু নেননি। নিজের ছোট সরকারি চাকরির বেতনে কষ্টে সংসার চালিয়ে গেছেন। মিতু, মিশু, যীশু আজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত। হত্যাকান্ডের বহুবছর পর এসে কর্নেল তাহের হত্যাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যাকান্ড উল্লেখ করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, জিয়া বেঁচে থাকলে এই হত্যার জন্যে তার বিচার করা যেতো। যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালি করে যাবে জিয়াকে ঘৃণা। অনেক শ্রদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। (ছবিটি কর্নেল তাহের হত্যার পঞ্চদশ বার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার)।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*