ব্রেকিং নিউজ
বিজিবির মহাপরিচালকের বক্তব্য রাজনৈতিক: বিএনপি

বিজিবির মহাপরিচালকের বক্তব্য রাজনৈতিক: বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: প্রয়োজনে গুলি করার নির্দেশ দেয়া হবে বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। তারা একে অতি উৎসাহী ও রাজনৈতিক পক্ষপাত বক্তব্য বলে মনে করছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে আইনসম্মত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী এই কমিটি।বৃহস্পতিবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের স্বাক্ষর করা এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির মহাপরিচালক বাহিনীর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি প্রয়োজনে অস্ত্র ব্যবহার করবে। তার এ বক্তব্য প্রচারের পর বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এর কঠোর সমালোচনা করে বিবৃতিটি  দেয়।

স্থায়ী কমিটির অভিযোগ, বিজিবি-প্রধান রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গুলি চালনার নির্দেশ দিয়েছেন, যা এখতিয়ার-বহির্ভূত ও আইন পরিপন্থী।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়,  সরকার ১৯৭৪ সালের কায়দায় জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও আন্দোলন দমন করতে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করছে। নাশকতার দায় চাপিয়ে দমন-পীড়ন জোরদার করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশে নাশকতার ঘটনা ঘটাচ্ছে।জনগণকে সঙ্গে নিয়ে হারানো ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন সফল করে এসব অপতৎপরতার জবাব দেয়া হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে দেয়া হয়।

বিবৃতিটি প্রায় হুবহু নিচে তুলে দেয়া হলো্-
বিবৃতিতে স্থায়ী কমিটি বলেছে, “রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিজিবি মহাপরিচালকের গুলি চালনার যে নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা তাতে গভীর উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই নির্দেশ সম্পূর্ণ এখতিয়ার-বহির্ভূত ও আইন পরিপন্থী।”

বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে বিবৃতিতে বলা হয়, “ভোটার-বর্জিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ক্রমাগত অস্বীকার করে আসায় দেশে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে একটি জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার চরম কর্তৃত্ববাদী শাসন চালু করেছে। তারা চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান তো দূরের কথা, বরং এ সংকটকে স্বীকারই করছে না। রাজনৈতিক সংকট থেকে উদ্ভূত চলমান অচলাবস্থাকে ক্ষমতাসীনরা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে প্রচার করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে সবকিছু দমিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীনদের অনেকেই চরম উসকানিমূলক হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন্- এমন  অভিযোগ করে স্থায়ী কমিটি বলেছে, “পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অতি উৎসাহী কতিপয় কর্মকর্তা বেআইনি নির্দেশ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক বক্তব্য প্রকাশ্যে দিতে শুরু করেছেন। এতে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটছে। আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীসমূহকে আইনসম্মত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী বর্তমান শাসক দল ১৯৭৪ সালে বিরোধী দল দমন, সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী দলকে দেখা মাত্র গুলি করার জন্য রক্ষীবাহিনীকে নির্দেশ এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সন্তোষে অবরুদ্ধ রেখে জনগণের সব মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সেই একই ধারায় তারা এবার বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানে ১২ দিন ধরে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে তারা নিষ্ঠুর পন্থায় দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, সিনিয়র নেতদেরসহ সারা দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, “তাদের অনেকের ওপর উৎপীড়ন করা হচ্ছে। ধরে নিয়ে অনেককে হত্যা ও গুম করে ফেলা হচ্ছে। নারীদের পর্যন্ত নির্যাতন করা হচ্ছে। ধরে নিয়ে গিয়ে আটকাবস্থায় তাদের ওপর দৈহিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পাড়ায়-মহল্লায় সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ করা হচ্ছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির দাবি, সরকার-সমর্থক সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের ওপরও বিভিন্ন জায়গায় হামলা করছে। সংবাদমাধ্যমে সে সবের সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হলেও কাউকে ধরা হচ্ছে না। অনেক জায়গায় অস্ত্র-গুলি-বোমাসহ গ্রেফতার হলেও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “একাধিকবার সহিংস অবরোধ ও অসহযোগে দেশ অচল করা, গানপাউডার দিয়ে চলন্ত বাসে অগ্নিসংযোগ করে যাত্রীদের পুড়িয়ে মারা, অফিসযাত্রীদের দিগম্বর করা, সমুদ্রবন্দর অচল করা, রেলস্টেশন জ্বালিয়ে দেয়া, বছরে ১৭৩ দিন হরতাল করা এবং পেট্রলবোমা মেরে ও লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যার অতীত কলঙ্কিত রেকর্ডধারীরা এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। তারা এখন আন্দোলনরত বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও জনসাধারণকে রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না। উপরন্তু পুলিশ পাহারায় তারা ক্ষমতাসীনদের সমর্থকদের দিয়ে মিছিল-সমাবেশ করাচ্ছে।”

এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রহরায় চলাচলকারী যানবাহনে বোমা হামলা বা আগুনে পুড়িয়ে নারী-শিশুসহ নিরপরাধ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সংযোগ রয়েছে বলে মনে করছে বিএনপির স্থায় কমিটি। বিবৃতিতে বলা হয়, “এসব নাশকতার প্যাটার্নের সঙ্গে শাসকদের অতীত হীন অপতৎপরতাসমূহ হুবহু মিলে যায়। তারাই সুপরিকল্পিতভাবে এসব অঘটন ঘটাচ্ছে। এর সঙ্গে জনগণের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এসবের দায়-দায়িত্ব পুরোপুরি ক্ষমতাসীনদের ওপরেই বর্তাবে।”

বিরোধী দলের ওপর নাশকতার দায় চাপিয়ে দমন-পীড়ন ও হত্যালীলা জোরদার করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব নাশকতার ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপির স্থায়ী কমিটির। বিবৃতিতে বলা হয়, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের হারানো মৌলিক ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সফল করেই এসব অপতৎপরতার জবাব দেয়া হবে।”

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*