ব্রেকিং নিউজ
পাহাড়ে লেবু বাগানের ফাঁকে ফাঁকে বারোমাসি আনারস

পাহাড়ে লেবু বাগানের ফাঁকে ফাঁকে বারোমাসি আনারস

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু লেবু গাছ। ডালে ডালে লেবু। লেবু গাছের ফাঁকে রোপণ করা হয়েছে আনারস গাছ। প্রায় ১ ফুট উঁচু এসব গাছে ধরেছে বারোমাসি আনারস। এ দৃশ্য হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর পাহাড়ি এলাকার। শুধু রশিদপুরেই নয়, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুরের পাহাড়ি জমিতেও এখন লেবু গাছের ফাঁকে ফাঁকে উৎপাদন করা হচ্ছে কেমিক্যালমুক্ত (বিষ) বারোমাসি আনারস। এসব আনারস বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। দিন দিন এর চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় পাহাড়ে প্রচুর জমি পতিত পড়ে থাকত। বর্তমানে এসব জমি আবাদ করে চাষিরা নানা ফসল ফলাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম লেবু ও আনারস। কারণ এ দুইটি ফসল দ্রুত পচনশীল নয়। তাই জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুর এলাকার পাহাড়ি পতিত জমিকে আবাদ করে ব্যাপকভাবে লেবু উৎপাদনে সফলতা পাওয়ার পরই চাষিরা এসব লেবু বাগানে আনারস চাষ করছেন।

চাষিরা জানান, লেবু ও আনারস চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। নেই তেমন কোনো ঝুঁকিও। পাহাড়ি জমিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে লেবু চাষ করছেন। বর্তমানে লেবু গাছের ফাঁকে বারোমাসি আনারস গাছ রোপণ করেছেন। নিজেদের খাবারের পাশাপাশি এসব আনারস বিক্রি করে বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। রশিদপুরের লেবু ও আনারস বাগানের মালিক সামিউল ইসলাম বলেন, পাহাড়জুড়ে লেবু গাছের ফাঁকে ফাঁকে রোপণ করা গাছে গাছে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। বারোমাসি আনারস চাষে তেমন কোনো শ্রম দিতে হয় না। বড় কথা হলো বিষ ছাড়াই আনারসের ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরাও এ ফসলটি চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উদ্ভিদ গবেষক মাহমুদুর রহমান মামুন ও পরিবেশপ্রেমিক বন গবেষক আহমদ আলী বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভালো। তাই কেমিক্যাল ছাড়া এখানে লেবু ও আনারস চাষ হচ্ছে। তাই পাহাড়ে চাষিরা এসব ফসল চাষকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি আর্থিক সহায়তা ও কৃষি বিভাগের সার্বিক পরামর্শ কামনা করেছেন তিনি।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বশির উদ্দিন সরকার জানান, পাহাড়ে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। তাই দিন দিন কৃষক লেবু চাষের সঙ্গে আনারস চাষে মনোযোগী হয়েছেন। বেকার যুবকরাও এ চাষে যুক্ত হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান করে নিচ্ছেন। এসব চাষাবাদে কৃষককে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক মিয়া বলেন, পাহাড়ে প্রচুর ঘাস রয়েছে। এসব ঘাস সংগ্রহ করে পাহাড়ি এলাকার লোকরা গরু-ছাগল, ভেড়া-মহিষ পালন করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আর এসব পশুর মলমূত্র ক্রয় করে নিচ্ছেন লেবু, আনারস ও চা বাগান মালিকরা। তারা এসব মল গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করে কেমিক্যালমুক্ত চাষাবাদ করছেন। বাগান মালিকরা এসব ফসল বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*