ব্রেকিং নিউজ
পান রপ্তানী করে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত: খাসিয়া উপজাতিরা মানবেতর জীবন যাপন করছে

পান রপ্তানী করে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত: খাসিয়া উপজাতিরা মানবেতর জীবন যাপন করছে

মোস্তাক চৌধুরী : বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তারা আজ আদিবাসী জনগোষ্টী নেই তাদের নিজের জমি জমা ভিটে মাটি, অন্যের সরকার থেকে লিজ নেওয়া পাহাড়ী জমিতে বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে তাদের বছরের পর বছর, হাজার বছর। ভূমিহীন হিসাবে পরগাছার মত বসবাস করায় তাদের দীন কাটে উচ্ছেদ আতঙ্কে।

তাদের নিজেস্ব সংস্কৃতি তাদের কৃষ্টি ঐতিহ্য তাদের উৎপাদিত পন্য পান চাষ (খাসিয়া পান) দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা তবে তাদের জীবন মানের হাজার বছরেও তিল পরিমাণ উন্ননয়ন হয়নি। আমাদের সিলেটের ঐতিহ্যের একটি অংশ, ঘরে যে কোন মেহমান আসলে আর কিছু না দিলেও যাওয়ার পূর্বে পান দিয়ে আপ্যায়ন করতে হয়। আর সেই পানের স্বাদ নিতে খাসিয়া পানের বিকল্প নেই। অথচ যাদের ঘাঁমে পরিশ্রমে এতো আপ্যায়ন সেই খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবন জীবিকার করুন ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা। আমরা সকলেই জানি খাসিয়া সম্প্রদায় পাহাড়ের “রাজা” সত্যিই তারা পাহাড়ের “রাজা”, তবে এ রাজত্ব তাদের নয় সরকারের, আর সরকার এ রাজ্য লীজ দেয় বংশ পরমপরায় খাসিয়া মন্ত্রিদের , আর মন্ত্রির পরিবার ছাড়া খাসিয়া উপজাতির সবাই পরগাছা, তারা মন্ত্রির লীজ কৃত জমিতে চুক্তি ভিত্তিক পান চাষ, আনারস ও লেবু চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে অথবা মাসুহারা বেতনে মন্ত্রির লীজকৃত জমিতে কাজ করে। বাস্তব সত্য হলো তাদের কিছু নেই। তারা অশিক্ষা কু-শিক্ষার মধ্যে কাজ করে আর খাওয়া ছাড়া তাদের আর কিছু নেই।

তাদের পাহাড়ের উপরে বসবাস, নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ধর্মশালা, তাদের যাতায়াতের জন্য নিজেস্ব কোন রাস্তাঘাট, অন্যের লীজকৃত চা বাগান, লেবু ও আনারস বাগান দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হয়। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মারামারী এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষই ঘটে থাকে।

যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা, সেনিটেশন কিছুই নেই তাদের, সব কিছুতেই পিছিয়ে রয়েছে এ জনগোষ্টী। এ জনগোষ্টীর মানুষ খুবই পরিশ্রমী তাদের মহিলা, পুরুষ, ছেলে, মেয়ে সবাই কাজ করে। মনিপুরী উপজাতিদের হাতের কাজ চাদর, শাড়ী, গেঞ্জি, ব্যাগ, বিশ্ববাজার খ্যাত। পান পুঞ্জিতে বসবাসরত খাসিয়া সম্প্রদায় হাজার বছর পার হলেও তা যে ভূমিতে বসবাস করছে বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে এ জমিতে তারা বসবাস করলেও তাদের জমির অধিকার এখনও প্রতিষ্টিত হয়নি। যে কারনে তাদের জীবন মান শিক্ষা চিকিৎসার কোন পরিবর্তন হয়নি। তাদের কেউ যদি অসুখ হয় তবে পাহাড়ের টিলা পার হয়ে ৩০-৪০ কিলোমিটার চা বাগান পারি দিয়ে রোগিকে কাঁেদ করে নিয়ে আসতে হয় মবস্বলে। এতে করে রাস্তায় অনেকেরই মৃত্যু বরন করে থাকে। অন্যদিকে শত কষ্ট দুঃখ দুরদশা কাঁেদ নিয়ে অদিবাসী খাসিয়ারা তাদের উৎপাদিত পন্য পান চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম সভাপতি পিটিশন প্রদান সুচিয়াং জানান আদিবাসী পল্লিতে শিক্ষা ও চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। পড়াশুনা ও চিকিসা নিতে হলে অনেক দূরে গিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন আদিবাসীদের খাসিয়া পান বিদেশে রপ্তানী করে সরকার মুনাফা অর্জন করছে অথচ এর জীবন মান উন্নয়ন হয়নি।

তারা বলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা সহ গেজেটে বাদ পড়া আদিবাসীদের নামে সঠিকভাবে গেজেটে অন্তরভূক্ত করা সহ তাদের ভূমির অধিকার বাস্তবায়ন করার জোর দাবী করেন। বাংলাদেশী ত্রিপুরা কল্যান সংসদের আঞ্চলিক কমিটি সম্পাদক শ্যামল দেববর্মা বলেন দেশে আদিবাসী দিবস সরকারি ভাবে করা হয় না। আমরা আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে এ দেশে বাস করছি আমাদের ভাষা সাংস্কৃতি কৃষ্টি সব হারিয়ে এ দেশেই আছি। ভোট আসলে আমরা, এমপি, মন্ত্রী, মেম্বার, চেয়ারম্যান বানাই। অথচ আমরা যাঝাবরের মতো জীবন যাপন করছি। আমাদের ভূমি অধিকার দেওয়া হয়না, আমাদের দিন কাটে উচ্ছেদ আতঙ্কে এতো হতে পারে না।

সমতলে অদবাসীদের ভূমি কমিশন ব্যবস্থা চালু করে তাদের সকল সমস্যা সমাধান করে নিরাপত্তা দিলে তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আছরী জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারতো, এ আদিবাসী জনগোষ্টি, মৌলভীবাজার জেলায় ছোট বড় ৩৫-৪০ টি খাসিয়া পুঞ্জি রয়েছে। আদিবাসীদের মধ্যে মৌলভীবাজার খাসিয়া, মুন্ডা, মনিপুরী, ত্রিপুরা, লালেং সহ ১০-১২ প্রজাতির সম্প্রদায় রয়েছেন, তারা সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছে, তাদের দেখার কেউ নেই।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*