ব্রেকিং নিউজ
টানা বৃষ্টিতে কমলগঞ্জের ধলাই নদে পানি বেড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের ২টি  স্থানে ভাঙ্গন ঃ তলিয়ে গেছে ব্যাপক এলাকার আমন ফসল

টানা বৃষ্টিতে কমলগঞ্জের ধলাই নদে পানি বেড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের ২টি স্থানে ভাঙ্গন ঃ তলিয়ে গেছে ব্যাপক এলাকার আমন ফসল

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে কমলগঞ্জে ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মুন্সীবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ২টি স্থান ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে ব্যাপক এলাকার রোপিত আমন ফসল তলিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকার একটি বসত ঘর নদী গর্ভে বিলিন হলেও ১৪টি বসত ঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।5 ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। বঙ্গপোসাগরে নি¤œচাপ সৃষ্টির ফলে গত শনিবার ও রোববারের টানা বৃষ্টিতে  কমলগঞ্জের ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর ও রহিমপুর ইউনিয়নের কুশালপুর এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে ২টি ভাঙ্গন দিয়েছে। প্রায় পাঁচ শত ফুট চওড়া করে ভাঙ্গন দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত গতিতে ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। ঢলের পানিতে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর ও রহিমপুর ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকার শষি আসা আমন ফসল তলিয়ে গেছে। ঢলের পানিতে মুন্সীবার ইউনিয়নের ঠাকুরের বাজার এলাকায় কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের বেশ কিছু এলাকা নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ধলাই নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের ভাঙ্গনে কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুর গ্রামের মনাই মিয়ার বসত ঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়। একই গ্রামে আরও ১৪টি বসত ঘর ঝুঁকিরপূর্ণ অবস্থায় আছে। এছাড়া বাদে সুরানন্দপুর গ্রামের ভাঙ্গনের পানিতে পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রামের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ বলেন, এ গ্রাম এলাকায় আগে ১৫ ফুট চওড়া বাঁধ ছিল। পানির বেড়ে ¯্রােতের আঘাতে এ গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে এখন অবশিষ্ট ৫০ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। একটি ঘর নদী গর্ভে বিলিন হলেও আরও ১৪টি বসত ঘর বিলিনের অপেক্ষায় আছে। এসব বসত ঘরের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন সোমবার সকালে মুন্সীবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ২টি স্থানে ভাঙ্গন ও ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে আমন ফসল তলিয়ে যাবার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ৫শ হেক্টর জমির আমন ফসল তলিয়ে গেছে। এ দিকে বন্যা কবলিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হক ,মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শংকর চক্রবর্তী ও পৌর মেয়র জুয়েল আহমদ। নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হক জানান ধলাই নদে প্রতিরক্ষা বাঁধের ২টি স্থানে ভাঙ্গনের কারনে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন বন্যার বিষয়টি সার্বক্ষনিক নজরদারী করছে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*