ব্রেকিং নিউজ
ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান বাংলাদেশের গর্ভ

ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান বাংলাদেশের গর্ভ

 

 

ঝিনাইদহ থেকে আতিকুর রহমান:

ঝিনাইদহে খোতাব প্রাপ্ত দুই জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এদের একজন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও অপরজন বীর প্রতিক সিরাজুল ইসলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দুজনাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার একজনকে বীরশ্রেষ্ঠ ও আরেকজনকে বীর প্রতীক খেতাবে ভুষিত করে। দুজনাই ঝিনাইদহ বাসির গর্ব। প্রতি বছর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে জেলাবাসি তাদের স্মরণ করে থাকেন। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই রনাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। ভারতের ত্রীপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে সে সময় বাঙ্গালী জাতির গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানকে দাফন করা হয়। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ হমিদুর রহমানের দেহবাশেষ ত্রীপুরা রাজ্য থেকে ঢাকায় এনে শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তার নিজcopy-of-cimg1555 গ্রাম খোর্দ্দখালিশপুরকে হামিদনগর করে গেজে প্রকাশ করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে ১৯৪৫ সালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ভারতের ২৪ পরগোনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর হামিদের পতিা আক্কাচ আলী মন্ডল ও মাতা কায়ছুন নেছা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দখালিশপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রয়ারী যুবক হামিদুর ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ভর্তি হন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই রনাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। ভারতের ত্রীপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে সে সময় বাঙ্গালী জাতির গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানকে দাফন করা হয়। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ হমিদুর রহমানের দেহবাশেষ ত্রীপুরা রাজ্য থেকে ঢাকায় এনে শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। সরকার বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তার গ্রামকে হামিদনগর নাম করণ করে। এছাড়া হামিদুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি সরকারী করণসহ হামিদনগর কলেজ মাঠে ৫৭ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি যাদুঘর কাম লাইব্রেরী। ঝিনাইদহ জেলা শহরের একমাত্র স্টেডিয়ামটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়। এদিকে শহীদ সিরাজুল ইসলামের পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার সাগান্না গ্রামে। অবিবাহিত সিরাজুল ইসলাম মা-বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন। তাঁর বাবার নাম আবদুর রহমান ব্যাপারী ও আফিয়া খাতুন। জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম চাকরি করতেন পাকিস্থান সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে এ রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল যশোর সেনানিবাসে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর ভারতে যান। সেখানে পুনরায় সংগঠিত হয়ে ‘জেড’ ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কামালপুর বিওপি। জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত কামালপুর গ্রামের মাঝামাঝি বিওপির অবস্থান। মুষলধারে বৃষ্টির সাথে ঘোর অন্ধকার। খালি চোখে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যান। তাঁরা দুটি দল বিভক্ত হয়ে পাকিস্থান সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে আক্রমন করেন। উচ্ছেদ হয় পাকিস্থান সেনাবাহিনীর শক্ত ঘাটি। সে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দলের নেতৃত্ব দেন সালাহউদ্দিন মমতাজ (বীর উত্তম) ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ (বীর বিক্রম)। তাঁদের নেতৃত্বেই মুক্তিযোদ্ধারা নিঃশব্দে এফইউপিতে সমবেত হন। অদূরে পাকিস্থান সেনাবাহিনীর ঘাঁটি ছিল। এক সময় ভারত থেকে শুরু হয় গোলাবর্ষণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ দল মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেয়। কিন্তু সেখানে কয়েকজন পাকিস্থানি সেনার আক্রমনের মুখে পড়েন মুক্তিযোদ্ধারা। এতে হতাহত হন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। ঝড়বৃষ্টির কারণে তাঁদের মধ্যে দেখা দেয় বিচ্ছিন্নতা। সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর দলের সহযোদ্ধারা ঝড়বৃষ্টি আর ঘুটঘুটে অন্ধকারেও মধ্যেও দমে যাননি। মনের জোর ও অদম্য সাহসে উজ্জীবিত হয়ে তাঁরা অধিনায়কের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। তাঁদের দেখে উজ্জীবিত হয় অন্যান্য উপদলের সহযোদ্ধারা। তাঁদের সমন্বিত আক্রমণে পাকিস্থান সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষায় ফাটল ধরে। প্রথম সারির অবস্থান থেকে পাকিস্থানীরা সরে যায়। শেলপ্রুফ বাংকারে অবস্থান নিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে। সিরাজুল ইসলামসহ ২২-২৩ জন অদম্য সাহসী মুক্তিযোদ্ধা গুলিবৃষ্টির মধ্যেই সামনে এগিয়ে যান। বাংকার অতিক্রম করে তাঁরা মূল প্রতিরক্ষার (কমিউনিটি সেন্টার) মধ্যে ঢুকে পড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে এক প্রকার হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেন সিরাজুল ইসলাম। তুমুল হাতাহাতি যুদ্ধের এক পর্যায়ে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন তিনি। একঝাঁক গুলির কয়েকটি লাগে তাঁর দেহে। বিদীর্ণ হয়ে যায় শরীর। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাজা রক্তে ভিজে যায় বাংলার মাটি। দ্রুত স্থিমিত হয়ে পড়ে সিরাজুল ইসলামের শরীর। নিভে যায় তাঁর জীবন প্রদীপ। শহীদ হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে এখানে ছিল পাকিস্থান সেনাবাহিনীর শক্ত ঘাঁটি। চারপাশে ছিল বাংকার। মোটা গাছের গুড়ি ও কংক্রিটের মাধ্যমে সেগুলো আর্টিলারি শেলপ্রুফ করা হয়। কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা ছিল গোটা বিওপি। বিছানো ছিল অসংখ্য মাইন ও বুবিট্রাপ। সেদিন যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানন সেনাবাহিনীর দুর্ভেদ্য প্রতিবন্ধকতা সাহসিকতার সঙ্গে পার হয়ে মূল প্রতিরক্ষায় ঢুকে দেশ খাটি দেশ প্রেমের নজীর স্থাপন করেন। এ সময় সিরাজুল ইসলামের দুই পাশের অনেক সহযোদ্ধা মাইন ও গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তা দেখেও সিরাজুল ইসলাম থেমে যাননি। দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় প্রতিশোধের নেশায় এগিয়ে যান।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*