ব্রেকিং নিউজ
জামায়াতের দৃষ্টি এবার ঢাকায়

জামায়াতের দৃষ্টি এবার ঢাকায়

জানুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের আন্দোলন নিয়ে শুরুতে অনীহা থাকলেও অবশেষে চলমান অবরোধে গা ঝারা দিয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। এক্ষেত্রে অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে দলটি। অবরোধকে ঘিরে গত ক’দিনে দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের তত্পরতায় এ চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এবার রাজধানীকে টার্গেট করে পরিকল্পনা করেছে দলটি।
সূত্রমতে, ৫ জানুয়ারি ঘিরে ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছিল জামায়াত। তবে অতীতে বিএনপির অসহযোগিতার অভিজ্ঞতা থেকে শুরুতে এ নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না দলটির। যে কারণে ৫ জানুয়ারি নিয়ে দলীয় ফোরামে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, যদি বিএনপি মাঠে নামে, কেবল তখনই জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা নামবে-অন্যথায় নয়। কিন্তু ৫ জানুয়ারির পর পরিস্থিতির আলোকে সে সিদ্ধান্তের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। এখন অনেকটা আগের মতোই মাঠে নেমে গেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। ইতোমধ্যে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর আক্রমণ, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত-শিবিরের আগের চেহারাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

গতকাল ভোররাতে রংপুরের মিঠাপুকুরে পুলিশ-বিজিবির নিরাপত্তাধীন বহরের একটি বাসে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রল বোমায় শিশুসহ চারজন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় কয়েকজন শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, রংপুর, সিলেট, বগুড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দলটির চেনা অ্যাকশন দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আটক হচ্ছে। দলের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেও এ বিষয়ে জানা গেছে।

জামায়াতের দায়িত্বশীলদের দাবি, অবরোধকে ঘিরে গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের কমপক্ষে এক হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। ২০ দলের আন্দোলনে জামায়াত-শিবির মাঠে নামছে না-এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে দলটির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, মাঠে না থাকলে নেতা-কর্মীরা গ্রেফতার হতো না। তিনি বলেন, ২০ দলের আন্দোলনে জামায়াত এখন হার্ডলাইনেই রয়েছে। এখন বিএনপিসহ জোটের অন্য শরিকদের সহযোগিতা পেলে আন্দোলন আরও জমবে বলে প্রত্যাশা তার।

তবে যেকোনো আন্দোলন জমানোর ক্ষেত্রে রাজধানী প্রাণকেন্দ্র হলেও এখনও পর্যন্ত দলটি সেই মূল জায়গাটিতেই সফলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে নানা ইস্যুতে রাজধানীতে মাঠ গরম করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে তারা। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও সরকারের কঠোর অবস্থানে তা নস্যাত্ হয়েছে। যে কারণে চলমান অবরোধ এবং পরবর্তী সময়ে রাজধানীকে টার্গেট করেছে দলটি। এ কাজে বিএনপি ও অন্য জোটসঙ্গীদের সহযোগিতা চায় দলটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক সদস্য বলেন, এ মুহূর্তে অবরোধ তুলতে রাজি নয় জামায়াত। দলের নেতা-কর্মীরা সবসময় মাঠে থেকে আন্দোলন সফল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে আন্দোলন মোটামুটি জমে উঠেছে। এ অবস্থায় জামায়াতের দৃষ্টি এখন ঢাকার দিকে। তবে জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ঢাকায় শক্তি প্রদর্শন করা অনেক কঠিন। যে কারণে বুঝেশুনে ঢাকায় পুরোদমে মাঠে নামবে কর্মীরা। এ নিয়ে দলগত ও জোটগতভাবে পরিকল্পনা চলছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে জোটের চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সরকার নমনীয় হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। নইলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মাঠ ছাড়বে না। যতদিন দরকার, ততদিন নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকবে। কারণ, সহসাই তিন কোটি নেতা-কর্মীকে শেষ করা সম্ভব নয়। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ২০-দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত। এ কর্মসূচি সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*