ব্রেকিং নিউজ
জাদুঘর একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান বরিশালে উদ্বোধন কালে মন্ত্রী- নুর

জাদুঘর একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান বরিশালে উদ্বোধন কালে মন্ত্রী- নুর

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে : সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর-এমপি বলেছেন, জাদুঘর একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান, যা মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের দেশীয় সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য অটুট রাখার জন্য বরিশালে বিভাগীয় জাদুঘরের দ্বার উন্মোচিত হলো।
সোমবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মকে জাদুঘর মুখী হতে হবে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। একটি দেশে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে সংস্কৃতির কোনো বিকল্প নেই। মন্ত্রী বলেন, সরকারের কর্মসূচী অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য হলো এই বিভাগের প্রতœতত্ত্ব সংগ্রহ করে ইতিহাস মানুষর কাছে তুলে ধরা। তিনি আশা করেন, এই জাদুঘর পর্যায়ক্রমে সমৃদ্ধ হবে। এজন্য নাগরিকদের প্রতি আহবান করেন, তাদের সংগ্রহে থাকা প্রতœতত্ত্ব জাদুঘরের কর্তপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে জাদুঘরকে সমৃদ্ধশালী করতে। মন্ত্রী আরও বলেন, সব ধর্মই মানুষকে সভ্য হতে শেখায়। কিন্তু সেই ধর্মকে ব্যবহার করে একটি পক্ষ দেশে অপশক্তি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাংলার প্রত্যেক জনগনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক শিরিন আখতারের সভাপতিত্বে উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিক বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বিভাগীয় কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গাউস, মেট্রোপালিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম প্রমুখ। উদ্বোধণী সভার শুরুতে সকাল সাড়ে দশটায় মন্ত্রী ফলক উম্মোচনের মধ্যদিয়ে বরিশালের দুই’শ বছরের পুরানো কালেক্টরেট ভবনে বিভাগীয় জাদুঘরের উদ্বোধণ করেন।
প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ.কে.এম সাইফুর রহমান জানান, ভবনটি বিভাগীয় জাদুঘর হিসেবে রুপান্তরের ঘোষণাকাল ও সংস্কারের পর প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ও দেশের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক নানা নিদর্শন, কীর্তিমান ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহ করা হয়। তিনি আরও জানান, জাদুঘরের দ্বিতীয় তলার ৯টি গ্যালারিতে বরিশাল বিভাগের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিচিতি, বরিশালের কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গ, বরিশালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও লোকশিল্প, প্রতœ-ঐতিহ্যে বরিশাল, বাংলাদেশের প্রতœ সম্পদ ও ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। উপনিবেশিক স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্মারক নিদর্শন হিসেব সংরক্ষিত এ কালেক্টরেট ভবনটি বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম প্রসাশনিক ভবন। বরিশাল কালেক্টর ভবনের গ্যালারিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বরিশাল কালেক্টরেট ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, নির্মাণ উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের নিদর্শন। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে কালেক্টর ভবনের পুরাতন আসবাবপত্র, পাথরের তৈরি মূর্তি, বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলকচিত্র, কারুকার্য খোচিত ইট, উৎকীর্ণ লিপি, মুদ্রা ও বিভিন্ন ধরনে তৈজসপত্রসহ সবমিলিয়ে ২ শতাধিক ঐতিহাসিক নানা নিদর্শন এবং উপাদান দিয়ে বিভিন্ন গ্যালারিতে বিষয়বস্তু নির্ভর করে সাজানো হয়েছে। বিভাগীয় জাদুঘর হিসেবে উপাদান কম থাকায় অনেক কিছুই সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এখনও বিভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিসের অনুসন্ধান চলছে। অনেককে পুরাতন নিদর্শন জাদুঘরে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যাদুঘরের এ চেষ্টা চলমান থাকবে। সাধারণ মানুষ জাদুঘরের বিষয়ে আকৃষ্ট ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে ক্রমেই সংগ্রহশালা বড় হবে।
অপরদিকে উদ্বোধনের আগে নিদর্শনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়ে সাইফুর রহমান আরও বলেন, নিরাপত্তার লক্ষ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্মিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নিজস্ব জনবল দিয়ে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ চলছে। আগামী জুলাই মাস থেকে আনসার সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমেও নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। মন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো এ জাদুঘরটি। জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কাস্টডিয়ান শাহীন আলম জানান, জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য গ্রীস্মকালে সকাল ১০ টা থেকে ৬ টা এবং শীতকালে সকাল ৯ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকবে। পাশাপাশি ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য কোনো ফি নেই, মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকা ও বড়দের জন্য প্রবেশ ফি ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ২৫ টাকা ও অন্যান্য দেশের জন্য ১০০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এর বাইরে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের কর্তৃপক্ষের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমতি সাপেক্ষে জাদুঘর পরিদর্শন করার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও জানান, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর থেকে জনবল এনে বরিশাল জাদুঘরের উদ্বোধণ ও দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করা হলেও জাদুঘরে মোট পদের বেশিরভাগই শূন্য রয়েছে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*