ব্রেকিং নিউজ
গণমাধ্যমের বার্তা বিভাগের এসি/ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিধান রেখে আইন প্রণয়ণ করা প্রয়োজন: মন্তব্য প্রতিবেদন

গণমাধ্যমের বার্তা বিভাগের এসি/ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিধান রেখে আইন প্রণয়ণ করা প্রয়োজন: মন্তব্য প্রতিবেদন

‘সাংবাদিকদের বেতন বেশি, ওয়েজ বোর্ডের দরকার নেই’-অর্থমন্ত্রী

এম এ মোহিত:‘সাংবাদিকদের বেতন বেশি, ওয়েজ বোর্ডের দরকার নেই’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এ কথায় অনেক সাংবাদিকের গায়ে আগুণ লেগেছে। কিন্তু আমি ভেবে চিন্তে দেখেছি অর্থমন্ত্রী একখান সঠিক এবং খাটি কথা বলেছেন। ৮ম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ি দেশের বড় বড় টাকা ওয়ালা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকসহ সিনিয়র রিপোর্টারের বেতন পান এক থেকে দেড় ২ লাখ টাকা।সঙ্গে আছে গাড়ি গানম্যান এবং ডেইলী অফিস খরচ ও আপ্যায়ন বাবদ কোম্পানীর বরাদ্ধ। এর বিপরীতে সফস্বল সাংবাদিকরা পান ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা। একজন রোজ কামলার মজুরী প্রতিদিন ৫শ থেকে ৭শ টাকা। আচ্ছা ধরে নিলাম একজন জেলা সংবাদদাতা যদি বেতন পান ৫ হাজার টাকা তা হলে তার রোজ কত পড়লো প্রিয় পাঠক আপনারাই হিসেব করে মিলিয়ে দেখুন। এখন কিন্তু ২০-২৫ বছর আগের সাংবাদিকতার মত নয়। যে টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা একটি অনুষ্ঠানের সংবাদ রেকর্ড করে পুরো ক্যাসেটটাই পাঠিয়ে দেয়া হতো অফিসে। আর সংবাদ পাঠানো হতো টেলিফোন বা ফ্যাক্সে। অফিসের বার্তা বিভাগে তা দেখে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু খুঁজে বের করে অনইয়ার করতেন সম্পাদক বার্তা সম্পাদকরা। আর এখন অনুষ্ঠান রেকর্ড করে ভিডিও সম্পাদনা করার পর সংবাদ তৈরি করে অর্থাৎ সব কাজ শেষ করে পাঠাতে হয়। এই সংবাদ একটু ঘষামাজা করে প্রচারে দেয়া হয়। সামান্য ত্রুটি হলে ধমক-খরদারি তো আছেই বার্তা বিভাগের। এসব সংবাদ প্রচার হলে পড়ে রাজনৈতিক নেতার বিরাগভাজন হলে প্রাণ বাঁচাতে ছাড়তে হয় এলাকা। না হয় ৫৭ ধারার মামলা। বাংলাদেশের দুই একটি জেলা ছাড়া প্রায় সব”কটি জেলার আয়তন গড়ে ২০০ বর্গ কিলোমিটার। এই দুইশ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে আছে পাহাড়-জঙ্গল, হাওর-বাওর, নদী-নালা। এসব এলাকা বিচরণ করে একজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা মিটিয়ে সংবাদ তৈরি করে স্ব-স্ব অফিসে পাঠান। শত কিলোমিটার দুরে হলেও এই সাংবাদিকের বাহন হলো রিক্সা, নৌকা, ভ্যান, টমটম,ভটভটি, নসিমন-করিমন, পাবলিক বাস ইত্যাদি। এজন্য অনেকের অফিস থেকে দেয়া হয় না কোন যাতায়াত ভাতা। একজন মফস্বল সাংবাদিককে খাতা,কলম থেকে শুরু করে কম্পিউটার/ল্যাপটপ,ক্যামেরা,মোবাইল,ইন্টারনেট,বিদুৎ্যবিলসহ যাবতীয় খরচ বহন করতে হয় নিজের পকেটের টাকায়। অন্যদিকে সম্পাদক/বার্তা সম্পাদক/সহ সম্পাদকরা মালিকের টাকায় তৈরি করা এসি অফিসসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদী ব্যবহার করেন। কোন কারণে তারা একটি ফোন জেলা প্রতিনিধি বা থানা প্রতিনিধিকে করতে হলে অফিসের ফোনই ব্যবহার করেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। যাতায়াতের জন্য আছে অফিসের গাড়ি। লম্বা বেতন এবং এত সুযোগ সুবিধা থাকার পরও আবার নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের খড়গ সরকারের ওপর। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ এসব কথায় কান দিবেন না। কারণ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগে মফস্বলে থাকা সাংবাদিকরা সব কাজ করে অফিসে পাঠান। তা একটু ঘষামাজা করে সম্পাদক/বার্তা সম্পাদক/সহসম্পাদকরা লাগিয়ে দেন পত্রিকায় এবং প্রচার করেন টিভি চ্যানেল বা রেডিওতে। ওখানে এখন কোন কাজ নেই। তাই ওয়েজবোর্ডের বাস্তবায়নের কাজটি করবেন না। বরং তাদের লম্বা বেতন কমিয়ে জনপ্রতি গড়ে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে নিয়ে আসতে মালিক পক্ষকে বলুন। তাছাড়া যেহেতু এখন বার্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের বেশি কাজের ঝামলা নেই, তাই এই বিভাগে কর্মরতরা যাতে এসি,ফ্যান এবং প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করতে না পারেন সেজন্য গণমাধ্যমের মালিকগণকে ডেকে সময় সীমা বেঁধে দিয়ে এই বিষয়টি বলে দিন। তখন মালিক পক্ষ যদি তাদের র্কচারিদের আপত্তিতে এসি/ফ্যান খুলে নিতে না পারেন তা হলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে হলেও এই ব্যবস্থাটি যেন করা হয়। আর যেহেতু আপনার সরকার ক্ষমতায় জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতাও আছে। তাই গণমাধ্যমের বার্তা বিভাগে এসি,ফ্যান এবং প্রাইভেট গাড়ির ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিধান রেখে একটি আইন সংসদে পাশ করা দরকার। পাশাপাশি ওই কর্মকর্তারা পাঁয়ে হেঁটে গণপরিবহণে যাতায়াতের নির্দেশনা থাকা আবশ্যক। কারণ এই আইনটি পাশ হলে দেশের এবং মানুষের অনেক উপকার হবে। ১। দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, গ্রামগঞ্জে লোডশেডিং থাকবে না। ২। প্রাইভেট গাড়ি বন্ধ হলে ঢাকা শহরের যানজট অনেটা কমে আসবে এবং গ্যাসের অপচয় হবে না। ৩।হাঁটার কারণে তাদের ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অনেক রোগ-ব্যধি কমে যাবে। -চলবে

 

লেখক, কলামিষ্ট
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি (সাবেক) অদুনালুপ্ত আজকের কাগজ।
সাবেক স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক যুগান্তর।
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস এ টেলিভিশন।
 ফোন:০১৭১১৩৯৭০১২
Email-mamuhit2009@gmail.com

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*