ব্রেকিং নিউজ
কুলাউড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে জঙ্গি রিপনের দাফন সম্পন্ন

কুলাউড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে জঙ্গি রিপনের দাফন সম্পন্ন

 

এম এ মোহিত:
হুজি নেতা মুফতি হান্নানের সহযোগি দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের ফাঁসি কার্যকর করার পর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারের কোনাগাও গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ১০ টা ১ মিনিটে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রিপনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। তছাড়া তার বাড়ি কৃলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগাও গ্রামের পাশর্^বর্তী কবরস্থান এলাকার চার পাশ ঘিরে রাখে পুলিশ। কবরস্থানের অর্ধ কিলোমিটারের মধ্যে সংবাদকর্মীসহ বহিরাগত কাউকে প্রবেশে মৌলভীবাজার জঙ্গি রিপনের দাফন সম্পন উভকড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সামনে এবং পেছনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দু’টি পিকআপ ভ্যান মাঝখানে রিপনের মরদেহ বাহি এম্বুলেন্স নিয়ে কড়া পুলিশ পাহারায় রাত সোয়া ১২টায় রিপনের গ্রামের বাড়ি কোনাগাও পৌঁছানোর পর তার পিতা আ. ইউসুফ, মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর শাহী ঈদগাঁহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান স্থানীয় কোনাগাঁও মসজিদের ইমাম মৌলানা ইব্রাহীম। রিপনের গ্রামের মসজিদের পাশে জানাজা শেষে রাত ১টা ২৫ মিনিটে রিপানের দাফন শেষ হয়। এর আগে রাত ৯টার দিকে মানিক মিয়া নামে রিপনের এক চাচাসহ ছয়জন মিলে তার কবর খোঁড়েছেন। বাকিরা হলেন মো. রমিজ আলী, রহমান মিয়া, আমান মিয়া, খালিক মিয়া ও আলখাছ মিয়া।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের প্রধান ফটকে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন, কনস্টেবল রুবেল আহমদ এবং হাবিল মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং আনোয়ার চৌধুরীসহ ৭০ জন আহত হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুল, দেলওয়ার ওরফে রিপনকে মৃত্যুদন্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন সিলেট দ্রুত বিচার আদালত।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পূর্বোক্ত রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আসামিদের আপিল গত ৭ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিরা রিভিউ আবেদন করেন। ১৯ মার্চ সে আবেদন খারিজ হয়। পরে গত ২১ মার্চ রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

২২ মার্চ হুজি নেতা মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল এবং দেলওয়ার ওরফে রিপনের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছায়। সিলেট কারাগারে থাকা দেলওয়ার ওরফে রিপনকে এ রায় শুনানো হয়। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় এ তিন জঙ্গির মৃত্যু পরোয়ানা বিচারিক আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছায়।PIC

এরপর, গত ২৩ মার্চ নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সিলেট কারাগারে বন্দী থাকা দেলওয়ার ওরফে রিপন। পরে ২৭ মার্চ তিনি লিখিতভাবে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিন জঙ্গির প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করে দিয়েছেন। কারাবিধি অনুযায়ী তাদের দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে।’

গত মঙ্গলবার সকালে রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার চিঠি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছায়। এরপর ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুর ও আবু জান্দাল আপিল করেননি। ফলে তাদের ওই সাজাই বহাল থাকে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*