ব্রেকিং নিউজ
কমলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার ঝড়

কমলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার ঝড়

আব্দুর রাজ্জাক রাজা , কমলগঞ্জ থেকে ঃ
কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌর শহর ও হাট-বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। চায়ের দোকান ,হোটেল-রেস্তোরা ,অফিস,বাসা-বাড়ী সর্বত্রই আলোচনা-সমালোছনার ঝড় বইছে। কে হচ্ছেন ৪র্থ বারের মতো পৌর মেয়র ? আওয়ামীলীগ কি আসনটি নিজের আয়ত্বে নিতে পারবে নাকি বিএনপি তাদের দখলে রাখতে পারবে ? কারণ এর পূর্বে এই আসনটি বরাবরই বিএনপি’র দখলে ছিল। বেশীর ভাগ আলোচনায় প্রাধ্যান্য পাচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে মাঠে নামা প্রার্থীদের নিয়েই। এবারই প্রথম মেয়র পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হতে যাওয়ায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীকে নিয়েই বেশী আলোচনা হচ্ছে। নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে অনেক ভোটারই তাদের মতামত ব্যক্ত করছেন।
কমলগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর ১ম নির্বাচনে মুহিবুর রহমান চাষী (চেরাগ মিয়া) মেয়র নির্বাচিত হন। মুহিবুর রহমান আকষ্কিক ভাবে মূত্যুবরন করলে উপ-নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। (এক টার্মে ২ জন মেয়রের পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন)। ২য় নির্বাচনে বিএনপি সর্মথিত প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ মেয়র নির্বাচিত হন। ৩য় দফায় ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে কে মেয়র হচ্ছেন ? তাই নিয়ে এখন আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র। অতীতে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন কারী হাছিন আফরোজ চৌধুরী (স্বতন্ত্র) ও আবু ইব্রাহিম জমসেদ( বিএনপি’র) হয়ে এবারো প্রার্থী হয়েছেন। এবারই নতুন ভাবে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে একক প্রার্থী হয়েছেন পৌর যুবলীগ সভাপতি জুয়েল আহমদ। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে রফিকূল আলম, খেলাফত মজলিস থেকে প্রভাষক নজরুল ইসলাম। এছাড়া স্বতন্ত্র ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগকারী সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব ও সমাজসেবক মাসুক মিয়া। এখন লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে কমলগঞ্জ পৌর বিএনপি নেতাকর্মীরা এবারই প্রথম একক কোন প্রার্থীর পক্ষে না থেকে ৪টি অংশে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকটা প্রকাশ্যেই। ৪টি অংশের নেতাকর্মীরা আবু ইব্রাহিম জমসেদ,হাছিন আফরোজ চৌধুরী ,জাকায়িরা হাবিব বিপ্লব এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী জুয়েল আহমদ এর হয়েও কাজ করছেন। অপরদিকে জুয়েল আওয়ামী লীগের দলীয় একক প্রার্থী হওয়ায় পর ও বিএনপি-জামায়েত ইসলামীর নেতা কর্মীদের মৌন ও প্রকাশ্য সমর্থন আদায় করতে পেরেছেন। তবে এটা ও লক্ষ্যণীয় বিষয় যে ,আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক নেতা-কর্মী প্রকাশ্য জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মনোনিত দলীয় প্রার্থী জুয়েল আহমদ এর বিপক্ষে অবস্থান না নিলেও আড়ালে-আবড়ালে তার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তবে এই অপ্রকাশ্য বিরোধ থেকে উত্তরণ ঘটানোর জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ নেতৃস্থানীয় নেতা ছাড়া ও কমলগঞ্জ -শ্রীমঙ্গল এলাকা থেকে নির্বাচিত সাংসদ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি উপাধক্ষ্য মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জুয়েল আহমদ এখনও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*