ব্রেকিং নিউজ
এসএসসি পরীক্ষা বরিশালে প্রবেশপত্রের নামে চাঁদাবাজি

এসএসসি পরীক্ষা বরিশালে প্রবেশপত্রের নামে চাঁদাবাজি

এসএসসি পরীক্ষা
বরিশালে প্রবেশপত্রের নামে চাঁদাবাজি
বাংলাকাগজটুয়েন্টিফোরডটকম ১ ফেব্রুয়ারি বরিশাল এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদানকালে পরীক্ষার্থীদের কাছে চাঁদা নিচ্ছে বরিশালের বেশিরভাগ বিদ্যালয়। প্রবেশপত্র দেয়ার সময় বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামের স্কুলগুলোয় আরও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অবশ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে আপ্যায়নের জন্য ওই টাকা ব্যয় করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাহ মোহাম্মদ আলমগীর আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, প্রবেশপত্রের নামে এভাবে অর্থ নেয়া অবৈধ। নানা অজুহাতে পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করায় অভিযুক্ত স্কুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুলগুলো এক সপ্তাহ ধরে প্রবেশপত্র দিচ্ছে। এ সময় পরীক্ষার্থীদের কাছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বাকেরগঞ্জের স্কুলগুলোয় পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে গিফট কেনার জন্য ২৫০ টাকা এবং প্রবেশপত্র বাবদ ৩০০ টাকা আদায় করেছেন শিক্ষকরা। বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাকেরগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের পরীক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করেছেন। বাকেরগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র্রের খরচের জন্য তার স্কুলের ৭৯ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রবেশপত্র বাবদ ৩০০ টাকা নেয়া হয়েছে। ইনভিজিলেটর, পুলিশ, বোর্ডের লোকজন এলে ওই টাকায় আপ্যায়ন করা হয়। আর বিদায় সংবর্ধনার গিফট কেনার জন্য ২৫০ টাকা ঐচ্ছিক; বাধ্যতামূলক নয়।

গৌরনদী উপজেলার বার্থী স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী আরিফ মোল্লার বাবা ফারুক মোল্লা বলেন, তার ছেলে প্রবেশপত্র আনতে গেলে স্কুলশিক্ষক ৪০০ টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিক টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি। পরে ৪০০ টাকা পরিশোধ করে প্রবেশপত্র আনতে হয়েছে। উপজেলার কটকস্থল গ্রামের পরীক্ষার্থীর অভিভাবক সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রবেশপত্র নেয়ার সময় ৪০০ টাকা প্রদান না করলে তা দেয়া হয় না। গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ অলিউল্লাহ, বাকাই নিরাঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস প্রবেশপত্র বাবদ টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, এটা প্রবেশপত্র ফি নয়, কেন্দ্রের খরচ নির্বাহের জন্য নেয়া হচ্ছে। একইভাবে চাঁদা আদায় করা হয়েছে মুলাদির বাটামারা এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজীরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরকালেখা লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এছাড়া জেলার হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, উজিরপুরের স্কুলে স্কুলে চাঁদা আদায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। ঝালকাঠি জেলার আমুয়া চালিতাবুনিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম ফজলুল হক বলেন, তার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেয়ার সময় কেন্দ্র ফি বাবদ ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুরো টাকা পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মুঃ জিয়াউল হক বলেন, কেন্দ্রে খরচ বোর্ড কর্তৃপক্ষ বহন করে। কেন্দ্রগুলোয় পরিদর্শনে যাওয়া কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের আপ্যায়িত হওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্র ফির নাম করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*