ব্রেকিং নিউজ
আসবেন বলেও আসলেন না

আসবেন বলেও আসলেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি শেষ হয়েছে শুক্রবার (১০ নভেম্বর)। এরপরই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন। সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাই এখন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। সব মিলিয়ে গত কয়েক মাসেকের টানাপোড়েনের পর শেষ হলো সিনহা অধ্যায়।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এস কে সিনহা। বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে কার্যকাল শেষ হল মেয়াদের ৮১ দিন আগেই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ জন বিচারক প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাই প্রথম পদত্যাগ করলেন।

গত ৩ জুলাই  উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রেখে  রায় দেয় আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে ১ অগাস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই রায়ে প্রধান বিচারপতি সিনহার ৪০০ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ থাকে। এই রায়ে বর্তমান সংসদকে অপরিপক্ক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থারও সমালোচনা করা হয়৷ একই সঙ্গে সংবিধানের ১৬১ অনুচ্ছেদে বিচারকদের শৃঙ্খলা-বিধি নিয়েও কথা বলা হয়৷ প্রশ্ন তোলা হয় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে, যেখানে সংসদ সদস্যদেরও দলের বিপক্ষে গিয়ে ভোট দেয়ার অধিকার খর্ব করা হয়৷  এছাড়া স্বাধীনতা কারো একক নেতৃত্বে আসেনি বলে মন্তব্য করা হয়।

এরপরই শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পদত্যাগের জন্য তাকে আল্টিমেটামও দেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সংসদে বিচারপতি সিনহার তীব্র সমালোচনাও হয়।

নানা নাটকীয়তার পর অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর ছুটিতে যাওয়ার আবেদন বিচারপতি সিনহার। পরে আরেক আবেদনে ছুটির সময় বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

১৩ অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় যান প্রধান বিচারপতি সিনহা। তার আগে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা তিনি বিব্রত, শঙ্কিত। সুস্থ আছেন বলে জানান প্রধান বিচারপতি। যাওয়ার আগে তিনি বলে যান ছুটি শেষেই দেশে ফিরে আসবেন।

এর পরদিনই সুপ্রিম কোর্টের বিরল বিবৃতি। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন। সিনহার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ আনেন বিচারপতিরা। তাতে তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে চাননি অপর বিচারপতিরা।সর্বশেষ আজ শনিবার সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র পৌঁছায় বঙ্গভবনে।

জানা গেছে আপাতত কানাডাতে মেয়েল কাছেই থাকনে তিনি। কানাডাভিত্তিক অনলাইন সংবাদপত্র নতুন দেশ জানিয়েছে, দেশটির টরেন্টো শহরে একটি বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে সিনহার জন্য। আর তার পদত্যাগপত্র দূতাবাস মারফত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগেই এই বাড়ি ভাড়া করা হয়। অর্থাৎ ছুটি শেষ হওয়ার আগেই তার দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*