ব্রেকিং নিউজ
আজ পহেলা বৈশাখ, লাখো প্রাণের স্পন্দনে প্রথম সূর্য কিরণের সঙ্গে জেগে উঠবে নতুন বছর

আজ পহেলা বৈশাখ, লাখো প্রাণের স্পন্দনে প্রথম সূর্য কিরণের সঙ্গে জেগে উঠবে নতুন বছর

বাংলাকাগজটুয়েন্টিফোরডটকম ডেক্সঃ আজ পহেলা বৈশাখ। লাল-সাদা নকশার পরিধেয় পাবে প্রাধান্য। প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানী ঢাকা পরিণত হবে উৎসবের নগরে। নারীর সঙ্গে সজ্জায় থাকবে তাজা ফুলের মালা, হাতে কাচের চুড়ি। ক্লান্ত শিশুকে কাঁধে তুলে নিয়ে বাবা কিনে দেবেন রঙিন কাগজের চরকি, ঢোলক, পাখি কিংবা নারিকেলের একতারা কিনবেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, বাঁশির প্যাঁ-পুঁ, মানুষের কণ্ঠস্বর আর গানের সুরের আওয়াজে এক মহাআনন্দে ভেসে যাবে বৈশাখি দমকা হাওয়ায়। নগরজুড়ে বৈশাখি উৎসবের আয়োজন থাকবে অজস্র। পুরনো বছরের সব অপ্রাপ্তি, বেদনা মুছে দিয়ে মনের অন্ধকারে নতুন সম্ভাবনার শিখা জ্বালাতে নতুন বছরের শুভ সূচনা আজ। সোমবার চৈত্রসংক্রান্তির পড়ন্ত বেলার রোদের সঙ্গে সঙ্গে শেষ দিনটি কালের অতলে হারিয়ে গেছে। আজ পহেলা বৈশাখে লাখো প্রাণের স্পন্দনে প্রথম সূর্য কিরণের সঙ্গে জেগে উঠবে নতুন বাংলা বছর ১৪২২। নতুনের আবাহনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই চিরায়ত সুর প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে। বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক’।1_132956
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সব বয়সের নাগরিক নতুন পোশাক পরে নতুন বছরকে বরণের জন্য বিপুল উৎসাহে বের হয়ে আসবে রাজপথে। অধিকাংশের ঠিকানা হয়ে উঠবে রমনা বটমূল ও চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমিকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থল।
আপন জাতিসত্তার গৌরব ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের চেতনা নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে প্রাবাসী বাঙালিরা প্রাণের উচ্ছ্বাসে বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করছেন।
বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ বর্ণিল শোভাযাত্রায় যোগ দিতে এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট ও ‘ছবির হাট’ এলাকা হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। হাজারো মানুষ, গান, ঢাকঢোল আর বাঁশির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারুকলা চত্বর। এর সঙ্গে থাকে সমকালীন ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি প্রধান প্রতীক। চারুকলার নবীন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মাসখানেক ধরে এসব প্রতীক ও সাজসরঞ্জাম তৈরি করেন। এখানে শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি, চিত্রিত সরা, মুখোশ, কাগজের পাখিসহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম বিক্রি করা হয় সুলভ মূল্যে। আর এ অর্থ দিয়েই মঙ্গল শোভাযাত্রার অর্থের জোগান দেয়া হয়।
এবারও পহেলা বৈশাখে পথে নামবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। সকাল ৯টায় শুরু হবে যাত্রা। চারুকলা অনুষদ থেকে জানানো হয়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে বর্ষবরণ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’।
প্রধান প্রতীক ছাড়াও বড় আকারের প্রতীকের মধ্যে থাকবে কাকাতুয়া, ময়ূর, বাঘ, হাতি, ঘোড়া ও ছাগল। আর থাকবে বিশাল আকারের এক মাছ। এছাড়া মাঝারি ও ছোট আকারের মুখোশ ও পাখি। রূপসী বাংলা হোটেল, মৎস্য ভবন ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আসবে মঙ্গল শোভাযাত্রা নামের চলমান এ রঙের মেলা।Boishakhi
নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। সব সরকারি-বেসরকারি টিভি ও রেডিও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। নববর্ষ উদযাপনের জন্য ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে। এ উপলক্ষে সব কারাগার, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
যত দূর জানা যায়, পহেলা বৈশাখের দিনে উৎসবের শুরুটা সেই সম্রাট আকবরের আমল থেকেই। এই দিনে তিনি মিলিত হতেন প্রজাদের সঙ্গে। সবার শুভকামনা করে চারদিকে বিতরণ করা হতো মিষ্টি। এর পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে বর্ষবরণ উৎসব চলে আসে জমিদার বাড়ির আঙিনায়। খাজনা আদায়ের মতো একটি রসহীন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় গানবাজনা, মেলা আর হালখাতার অনুষ্ঠান। আজ আর খাজনা আদায় নেই। তবে ‘হালখাতা’ থাকলেও অনেক কমে গেছে। দেশের ব্যবসায়ী মহলে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান মানে নতুন অর্থবছরের হিসাব খোলা। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে নতুন একটি ‘লাল কভারের’ খাতায় হিসাব খুলে নতুন উদ্যমে শুরু করা হয় ব্যবসা। সেখানে অতীতের ভুলভ্রান্তিগুলো পর্যালোচনা করা হয়। হালখাতা থেকে নেয়া হয় নতুন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।
পান্তা আর ইলিশ অতীতে না থাকলেও বর্তমানে এটা বাঙালিকে ঘিরে ফেলেছে। পহেলা বৈশাখ মানেই হচ্ছে সকালে পান্তা আর ইলিশ। বৈশাখ এলেই ইলিশ কেনার চলে প্রতিযোগিতা। এবারও একটি আড়াই কেজির ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার টাকায়। এদিকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকাল ৯টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দুপুরে বাংলা ভোজের আয়োজন করেছে। বিকাল ৫টায় নজরুল একাডেমি তাদের ভবনে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*