ব্রেকিং নিউজ
আগৈলঝাড়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

আগৈলঝাড়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :
মানুষের খাদ্য তালিকায় মাংসের পরে স্থান পেয়েছে মাছ। মাছ পুষ্টিগুণ থেকে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ভিটামিনের অভাব পূরণ করে। এরমধ্যে মলা-ঢেলা প্রভৃতি ছোট মাছের মধ্যে অন্যতম যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।11173386_832745633427469_1853754969058668289_n সম্প্রতি বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা মেলেনি দেশীয় মাছের। আর যেসব মাছ পাওয়া যায় তা আবার কৃত্রিম পদ্ধতিতে চাষ করা। আকারে বড় হলেও ওইসব মাছের গুণগত মান সন্তোষজনক নয়। হাইব্রিড মাছে বাজার সয়লাব হওয়ায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বরিশালের আগৈলঝাড়ার যে সমস্ত এলাকা থেকে দেশীয় মাছ বেশি পাওয়া যেত ওই সমস্ত মাছের উৎসগুলো এখন বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘণসতি, খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-ঝিল ইত্যাদি দিন দিন বেদখল ও ভরাট করে মানুষ বাড়িঘর11160564_832746123427420_2873094766155833687_n তৈরী করছে। পাশাপাশি পুকুর-ডোবাগুলোতে কৃত্রিম উপায়ে মাছ চাষ করতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। ধানক্ষেতে বিভিন্ন রকমের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দেশী প্রজাতির মাছের প্রজনন ক্ষেত্রে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পরে। বিভিন্ন পুকুর ও খালের পানিতে ঔষধ ছিটানোর ফলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া মাছের গায়ে দেখা দেয় বিভিন্ন রোগ। আর এ সকল রোগ ছোঁয়াচে হওয়ায় একটি মাছ থেকে অন্য মাছের গায়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে মাছগুলোর বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রচন্ড ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শূণ্যের কোটায় গিয়ে পৌঁছুতে থাকে দেশীয় মাছ। একসময় উপজেলার বাগধা, সাতলা, পয়সারহাট, রাজিহার, বাশাইল, সাহেবেরহাট, মোল্লাপাড়া, আস্কর,11169944_832745850094114_2630256920426623999_n নাগিরপাড় এলাকা থেকে প্রতিদিন দেশীয় কই, শিং, মাগুর, শৌল, গজাল, বোয়াল, টাকি, পাবদা, টেংরা, ফলি, খলিশা, ভেটকি, পাবদা, পুঁটি প্রভৃতি মাছ আসত বিভিন্ন বাজারে। ফলে মানুষের দৈনন্দিন দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায় এর বিপরীত চিত্র। দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা খুবই সীমিত। যা আছে তার আবার দাম চড়া হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা কিনতে হিমশিম খায়। চাহিদা অনুযায়ী মাছ না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় ক্রেতাদের। দেশীয় মাছের মধ্যে শিং, মাগুর, শৌল, টেংরা, পাবদা, পুঁটি মাছের চাহিদা রয়েছে প্রতিনিয়ত। আর এসকল মাছের বেশির ভাগই ডাক্তাররা রোগীদের খাবার তালিকায় দিয়ে থাকে। বাজারে মাছ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী মাছ ক্রয় করা কষ্টকর হয়ে পরে অনেক ক্রেতার। অনেক সময় দেশীয় প্রজাতির চাহিদা সম্পন্ন মাছ ক্রয় করতে পারেন না ক্রেতারা। উপজেলার গৈলা বাজার, বাশাইল বাজার, রাজিহার বাজার, গুপ্তেরহাট বাজার, সাহেবেরহাটসহ বিভিন্ন মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায় যে, সামুদ্রিক ও অন্যান্য মাছের জোগান থাকলেও দেশীয় প্রজাতির মাছ তুলনামূলক কম। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্পটে দেশীয় মাছ বিক্রেতাদের দেখা গেলেও তাদের মাছের পরিমাণ একেবারেই সামান্য। এব্যাপারে গৈলা বাজারে আসা এক ক্রেতা জানান, দেশীয় প্রজাতির কৈ ও শিং মাছ কিনতে বাজারে এলেও যে পরিমাণ মাছ রয়েছে তা আবার দামে চড়া। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে মৎস্য অধিদপ্তর ও সচেতন মহলসহ আমাদের সকলকে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। অপরদিকে মাছ বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। এখন আর কেউ ছোট মাছের দিকে নজর দেয়না। যারা মাছ চাষ করেন তারা বড় মাছের উপর নির্ভরশীল, যে কারণে দিন দিন বাজারে ছোট মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এবিষয়ে এক পুষ্টি বিশেষজ্ঞ জানান, ছোট মাছ কমে গেলে মানুষের শরীরে পুষ্টির চাহিদা ব্যাহত হবে। তাই ছোট মাছের প্রজনন ও বিচরণস্থল নির্বিঘœ রাখতে হবে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*